ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। ছবি: সংগৃহীত।
সিঁদুর অভিযান এখনও চলছে। নাম না করে পাকিস্তানকে আবার হুঁশিয়ারি দিলেন ভারতের স্থল সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। শুধু তা-ই নয়, সেনাপ্রধান এটাও দাবি করেছেন যে, সিঁদুর অভিযানের সময় পাকিস্তানে স্থল অভিযানের (গ্রাউন্ড অপারেশন) জন্যও সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল সেনা। পাকিস্তান যদি কোনও রকম ভুলচুক করত, তা হলে তার বড় মাসুল চোকাতে হত তাদের। এমনই দাবি করেছেন সেনাপ্রধান দ্বিবেদী।
কী ভাবে সিঁদুর অভিযান চালানো হয়েছিল, সেখানে তিন বাহিনীকে কী ভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল, সেনাপ্রধানের মঙ্গলবারের বক্তব্যে সেই প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। পাশাপাশি তিনি এটাও জানিয়েছেন, সিঁদুর অভিযান কিন্তু এখনও চলছে। নজর রাখা হচ্ছে সীমান্তের ওপারে থাকা জঙ্গি শিবিরগুলিতেও। কোনও রকম সন্দেহজনক কিছু দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবেই বলেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সেনাপ্রধান। তাঁর কথায়, ‘‘সিঁদুর অভিযানের সময় জম্মু-কাশ্মীরে যে ভাবে পাকিস্তানের গোলাগুলির জবাব দিয়েছে আমাদের সেনা, তা ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং সুনির্দিষ্ট।’’
পাশাপাশি সেনাপ্রধান এটাও জানিয়েছেন, সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করা হলেও কিন্তু পশ্চিম সীমান্ত বরাবর এবং জম্মু-কাশ্মীরে পরিস্থিতি এখনও সংবদেনশীল হলেও তা কিন্তু নিয়ন্ত্রণেই। তাঁর কথায়, ‘‘২০২৫ সালে ৩১ জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই পাকিস্তান বংশোদ্ভূত। তাদের মধ্যে তিন জন আবার পহেলগাঁও হামলার অন্যতম চক্রী ছিল। মহাদেব অভিযান চালিয়ে এই জঙ্গিদের নিকেশ করা হয়েছে।’’ সেনাপ্রধানের দাবি, স্থানীয় জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিদলে নিয়োগের ঘটনাও অনেক কমে গিয়েছে। ২০২৫ সালে দু’জন জঙ্গিদলে যোগ দিয়েছিলেন। আর এটা থেকেই স্পষ্ট যে, কতটা শক্ত হাতে জঙ্গিদমন করা হচ্ছে ওই অঞ্চলে।
এর পরই পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘‘সীমান্তে জঙ্গি কার্যকলাপ এবং জঙ্গিশিবিরের উপর নজরদারি চালাচ্ছে সেনা। এখনও আটটি জঙ্গিশিবির সক্রিয় রয়েছে। তার মধ্যে দু’টি রয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ও পারে এবং ছ’টি রয়েছে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে। আমাদের বিশ্বাস সেখানে জঙ্গিপ্রশিক্ষণও চলছে। সে জন্যই নজরদারি চালানো হচ্ছে। যদি সীমান্তকে অশান্ত করে তোলার চেষ্টা হয়, তা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পিছপা হব না।’’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা হয়। সেই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। তার পরই ৭ মে পাকিস্তানে সিঁদুর অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিদের বহু শিবির ধ্বংস করে দেওয়া হয়। মৃত্যু হয় একশোরও বেশি জঙ্গির। সেই অভিযানকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। ভারতের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। কিন্তু সেই হামলা রুখে দেয় ভারতের তিন বাহিনী।