ইরানের রাজধানী তেহরানে ইজ়রায়েলের হামলা। ছবি: রয়টার্স।
তেহরানকে বার্তা দিল পড়শি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সে দেশের এক কূটনৈতিক পরামর্শদাতা আনওয়ার গারগাশ জানিয়েছেন, ইরানের আক্রমণ তাঁদের দেশকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তেহরানের প্রতি তাঁর বার্তা, ‘‘তোমাদের যুদ্ধ কিন্তু তোমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে নয়।’’
ইরানের রাজধানী তেহরানে ফের হামলা চালাল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহুর বাহিনী এই ঘোষণার পরেই ইরান জানিয়েছে, তেহরানে প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
করাচির মার্কিন উপদূতাবাসে ইরানের সমর্থনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কয়েক জন। সেখানে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা এএফপি। মৃতদের অধিকাংশের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে। কে গুলি চালাল, এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েকটি রিপোর্টে দাবি, পাক সেনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গুলি চালিয়েছে।
আমেরিকার সঙ্গে যৌথ ভাবে ইরানে এক দিনে ১২০০টির বেশি বোমা ফেলেছে ইজ়রায়েলের বায়ুসেনা। মিনাবে মেয়েদের স্কুল, দক্ষিণ ইরানে হরমোজ়গান প্রদেশে বোমা ফেলা হয়েছে। হরমোজ়গানে মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের। হামলার নিন্দা করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচিতেও বিক্ষোভ। সেখানে মার্কিন উপদূতাবাসে ঢুকে পড়েছে উত্তেজিত জনতা।
ইরানের সেনাপ্রধান আব্দুল রহিম মৌসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজ়িজ় নাসিরজ়াদেহ্ও শনিবারের মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। রবিবার তা নিশ্চিত করল তেহরানের সরকারি সংবাদসংস্থা।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের রাস্তায় নেমে পড়েছেন অনেকে। মার্কিন ও ইজ়রায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাঁরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ইরানকে সমর্থন করে খামেনেইয়ের ছবি হাতে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে শ্রীনগর, বান্দিপোরা, সোনাওয়ারিতে।
শ্রীনগরে খামেনেইয়ের ছবি হাতে বিক্ষোভ। ছবি: পিটিআই।
কাতারের রাজধানী দোহাতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। পর পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। সেখানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরু করেছে ইরান। ইজ়রায়েলে সাইরেন বাজছে। তেল আভিভে বাসিন্দাদের বাঙ্কারে বা নিরাপদ আশ্রয়ে ঢুকে যেতে বলা হয়েছে। জর্ডনের সেনাবাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র আটকেছে। সেটি তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র না ইজ়রায়েলের, স্পষ্ট নয়।
ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর বলেছেন, ‘‘আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল আমাদের লাল সীমা (রেড লাইন) অতিক্রম করে ফেলেছে। এ বার ওদের মূল্য দিতে হবে।’’
ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলার ঘটনায় দুবাই বিমানবন্দরে আটকে পড়েন ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে।’’
ইরানে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলার নিন্দা করল চিন। অবিলম্বে চিনা নাগরিকদের ইরান এবং ইজ়রায়েল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে তারা। বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত থাকায় কোন কোন সড়কপথ খোলা, তা-ও বলে দেওয়া হয়েছে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত হতেই তেহরানে শোকের আবহ। রাস্তায় নেমে পড়েছেন অনেকে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মহিলারা। কয়েক জনকে খামেনেইয়ের ছবি হাতে কাঁদতে দেখা গিয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা রবিবার সকালে জানিয়েছে, দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান, বিচারব্যবস্থার প্রধান এবং অভিভাবক কাউন্সিলের এক আইন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে আপাতত একটি তিন সদস্যের কাউন্সিল তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তী শাসক নির্ধারিত না-হওয়া পর্যন্ত সাময়িক ভাবে এই কাউন্সিল দেশ চালাবে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেন, এ বার ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে। একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেছেন।
ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নতুন করে পশ্চিম ও মধ্য ইরানের ৩০টি জায়গায় তারা হামলা চালিয়েছে। হামলা চলবে।
খামেনেইয়ের কন্যা, জামাই এবং নাতনিরও মৃত্যু হয়েছে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বাহিনীর যৌথ হামলায়। মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের প্রধান উপদেষ্টা এবং ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলি শামকানিরও।
খামেনেইয়ের মৃত্যুতে টানা ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হবে ইরানে। সে দেশের সরকারি সংবাদসংস্থা এই খবর জানিয়েছে।
ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে। পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। রবিবার সকালে তারা জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে তীব্র’ হামলা শুরু হতে চলেছে আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই। একটি বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলাটা এ বার তারা করবে।