Lionel Messi Case In Kolkata

মেসিকাণ্ড: অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাঁচ ধারায় রুজু এফআইআর! সমাজমাধ্যমে ‘সত্যের জয়’ পোস্ট শতদ্রুর

এফআইআরের কপি-সহ একটি পোস্ট করে সে কথা নিজেই জানান শতদ্রু। সেখানে তিনি লেখেন, “সত্যের জয় হয়েছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।”

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০১:১৬
Share:

(বাঁ দিকে) অরূপ বিশ্বাস, শতদ্রু দত্ত এবং লিয়োনেল মেসি (ডান দিকে) গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

লিয়োনেল মেসির সফর ঘিরে যুবভারতীতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে আগেই রাজ‍্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। এ বার অরূপের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।

Advertisement

এফআইআরের কপি-সহ একটি পোস্ট করে সে কথা নিজেই জানান শতদ্রু। সেখানে তিনি লেখেন, “সত্যের জয় হয়েছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।” শতদ্রু তাঁর পোস্টে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

অরূপের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় এফআইআর রুজু করা হয়েছে— অভিন্ন উদ্দেশ্য ৩(৫), তোলাবাজি ৩০৮(২), প্রতারণা ৩১৮(৪), অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ৩৫১(২) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ৬১(২)।

Advertisement

অভিযোগ, গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানের আগে শতদ্রুর কাছে প্রচুর টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ। তাঁর কথার অমান্য করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। শতদ্রুর থেকে ২২ হাজার ‘কমপ্লিমেন্টারি’ টিকিট নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অরূপের বিরুদ্ধে। সেই টিকিটগুলি পরে কালোবাজারি করা হয় বলে অভিযোগ। মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে ভিড় তৈরি হয়েছিল, সেখানে ছিলেন মূলত উদ্যোক্তা, ছবিশিকারি, নেতা, মন্ত্রী এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠজনেরা। অভিযোগ, মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন অরূপ।

এর আগে গত ১৯ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু। তাঁর দাবি, অরূপ-সহ কয়েক জন ব্যক্তির ভুলের জন্য পুরো অনুষ্ঠানটি ‘পণ্ড’ হয়েছে। অনেকেই অনুমতি ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। যার জেরে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা।

গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীর ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পরে প্রবল সমালোচনার মুখে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি’ নেন। প্রভাবশালীদের ভিড়ে একসময় মাঠে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে গিয়েছিল। মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ়ের পেটে কারও কনুইয়ের গুঁতো লাগে। কারও নখের ঘায়ে ছড়ে যায় রদ্রিগো ডি’পলের হাত। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মেসির নিরাপত্তারক্ষীরাই তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। তার পরে শুরু হয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তাণ্ডব। ক্রুদ্ধ দর্শকেরা মাঠে ঢুকে পড়েন। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ওই ঘটনা নিয়ে দু’টি পৃথক মামলা হয়েছিল। প্রথম মামলায় একমাত্র গ্রেফতার শতদ্রু। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে শতদ্রুর জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ জানিয়েছিল, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখবেন বলে টিকিট কেটেছিলেন। ১৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement