লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। —ফাইল চিত্র।
৭টি প্রতিনিধি দল, ৫৫ জন সাংসদ, ৩৩টি দেশ। গত বছর জুনে, অপারেশন সিঁদুরের পরে তড়িঘড়ি ভারতের সন্ত্রাস-বিরোধী অবস্থান বোঝাতে হওয়া সেই বিদেশ অভিযানের ফলে কূটনৈতিক লাভ কতটা হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। তারই মধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফের আলোড়ন বিরোধী শিবিরে। ৬০টি-র বেশি দেশে ৬০০-র বেশি লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদকে ‘সংসদীয় বন্ধুত্বের দল’ হিসেবে পাঠানোর ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। গত বারের সেই দৌত্যের খরচ প্রায় ১০০ কোটির মতো ছিল বলে সূত্রের খবর। এ বার যেহেতু বিষয়টি আকারে মহাদৌত্যের তাই করদাতাদের টাকায় আকাশছোঁয়া খরচ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির আগে এটা তাঁর সচিবালয় তথা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও নরমপন্থী কৌশল কি না, উঠছে সেই প্রশ্নও।
ভোটের মুখে দাঁড়ানো রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেছে আজ। দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “আমাদের দলের সাংসদদের এখন এক এবং একমাত্র লক্ষ্যস্থল হল রাজ্যের ভোটারদের সুরক্ষিত রাখা যাতে তাঁরা ভোট দিতে পারেন।” তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, তাঁদের কাছে কোনও আমন্ত্রণ স্পিকারের দফতর থেকে আসেনি, এলেও রাজ্য ছেড়ে দলে দলে বিদেশ ঘোরার কোনও প্রশ্ন উঠছে না এই সময়ে।
পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না তা স্পষ্ট করা হয়নি। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে সরকারি ভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। দুই, এর পিছনে সরকারের কী উদ্দেশ্য সেটা স্পষ্ট নয়। স্পিকার পাঠাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া এত বড় প্রতিনিধি দল যাবে, এটা অসম্ভব। বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী বলতে পারলেন না লোকসভায় বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে সে জন্যই কি এই সফরের আয়োজন? নাকি বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এমন কোনও বিল আনার কথা ভাবছে সরকার যাতে বিরোধীদের একাংশের সমর্থন দরকার পড়তে পারে? এই বিপুল টাকা খরচ করা হচ্ছে কেন তা খতিয়ে দেখতে চাওয়া হচ্ছে। সফরের কোনও দিনক্ষণও স্পষ্ট করা হয়নি।
সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কথায়, “আন্তর্জাতিক মানচিত্রে ভারতের ছাপ যখন বিস্তৃত হচ্ছে এই উদ্যোগ শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করবে, সংসদীয় কূটনীতিকে শক্তিশালী করবে।”
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাতশো জন সাংসদের কোনও প্রসঙ্গ ছাড়াই এককালীন এই বিদেশ সফরের ‘হট্টমেলার’ মধ্যে সরকারি ভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির পরিসর একেবারেই থাকে না। সংসদীয় দলের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দেশে নিয়মিত সফরে যান, সেখানকার পার্লামেন্টের সেরা অভ্যাসগুলি দেখে আসতে। কিন্তু তা এমন বিপুলায়তন হয় না কখনই।
যে দল তৈরি করা হয়েছে তাতে রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ বিষয়। ভোটমুখী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের অন্যতম প্রধান নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলজিরিয়াগামী দলের নেতা, আর এক ভোটমুখী রাজ্য অসমের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈকে ফিলিপিন্সগামী সংসদীয় দলের নেতা করে দেওয়া হয়েছে! আমেরিকায় প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেবেন বিজেপি সাংসদ বৈজয়ন্ত পণ্ডা। ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইটালিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাছা হয়েছে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমকে। ভোটের মুখে এই ধরনের পদক্ষেপকে ‘অপরিণত’ এবং ‘হাস্যকর’ বলেই মনে করছে বিরোধী দলগুলি।
সিপিআইএমএল (লিবারেশন) নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘সংসদীয় দলকে মোদী সরকারের অঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করুন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে