West Bengal Assembly Election 2026

‘ফের নরেনকে চাই’, দেওয়াল লিখনে জল্পনা

তৃণমূলের কেন্দ্রা অঞ্চল সভাপতি যমুনা ধীবর জানান, রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের কথা দেওয়ালে লেখা হচ্ছে।

নীলোৎপল রায়চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১১
Share:

এই দেওয়াল লিখন ঘিরে তরজা। নিজস্ব চিত্র

ভোট ঘোষণা এখনও হয়নি। প্রার্থিপদ নিয়েও চর্চা চলছে তৃণমূলের অন্দরে। তারই মধ্যে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে আবার এলাকায় প্রার্থী করার দাবিতে দেওয়াল লেখা ঘিরে চর্চা তৈরি হল পাণ্ডবেশ্বরে। ‘যখন ডাকি তখন পাই, ভূমিপুত্র নরেনদাকে আবার চাই’— এই মর্মে দেওয়াল লিখন নজরে পড়েছে এই বিধানসভার দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের গোগলা এবং পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের কেন্দ্রা পঞ্চায়েত এলাকায়।

২০২১ সালে পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রে জিতে নরেন্দ্রনাথ বিধায়ক হন। দলের কর্মীদের একাংশের দাবি, সম্প্রতি দলের রাজ্য নেতৃত্ব ৭৫ জন বিধায়ককে ফের টিকিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন খবর ছড়ানোর পরে, এই দেওয়াল লিখন ঘিরে চর্চা আরও বেড়েছে। দলের একটি সূত্রের দাবি, এলাকায় বিধায়কের কিছু ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এবং এক পুরনো নেতার সঙ্গে তাঁর ‘দূরত্ব’ নিয়ে জলঘোলা হচ্ছিল। তাঁকে পাণ্ডবেশ্বর লাগোয়া অন্য কোনও কেন্দ্রে প্রার্থী করার চর্চাও রয়েছে দলের অন্দরে। এরই মধ্যে, ‘দ্বিতীয় বার নরেনদাকে চাই’ দেওয়াল লিখন জল্পনা বাড়িয়েছে।

তৃণমূলের কেন্দ্রা অঞ্চল সভাপতি যমুনা ধীবর জানান, রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের কথা দেওয়ালে লেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে, বেশ কিছু দেওয়ালে দলের নাম লেখা হয়েছে। এ ভাবে দেওয়াল লিখনের কারণ, নির্বাচন ঘোষণার আগে প্রচারে এগিয়ে থাকা। তবে কেউ কেউ বিধায়কের প্রতি আবেগে এমন লিখে থাকতে পারেন। তবে নরেন্দ্রনাথকে ভোট দেওয়ার আর্জি কোথাও লেখা হয়নি। তৃণমূলের গোগলা অঞ্চল সভাপতি গৌতম ঘোষের দাবি, নরেন্দ্রনাথ বিধায়ক হিসাবে নানা রাস্তা তৈরি, ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তাতে স্থানীয় বাসিন্দারা ফের তাঁকে বিধায়ক দেখতে চান বলেই হয়তো এমন লিখেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘দলের কোনও কর্মী নিশ্চয় লেখেন নি। কারণ তাঁরা দলের অনুশাসন জানেন।’’

বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির দাবি, ‘‘কয়লা, বালি এবং লোহার কারবারিরাই এই দেওয়াল লিখেছে। কারণ, ওরা যখনই ডাকে, তখনই নরেন্দ্রনাথকে পায়। পাঁচ বছরে নরেন্দ্রনাথের নেতৃত্বে পাণ্ডবেশ্বরে তৃণমূলের ভাবমূর্তি যে কালিমালিপ্ত হয়েছে, এটা ওই অবৈধ কারবারিরাও জানে। তাই তাঁকে দুর্গাপুর পশ্চিমে পাঠানো হতে পারে, এই খবরে তারা বিচলিত হয়ে এমনটা করেছে।’’ গোগলা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি গৌতমের পাল্টা দাবি, ‘‘জিতেন্দ্র তিওয়ারি পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক থাকাকালীন কয়লা, লোহা, বালি চোরেরা কী ভাবে ওঁর সঙ্গে প্রকাশ্যে ঘুরতেন, তা মানুষ জানেন। তাই তাঁর মুখে এ সব কথা মানায় না।’’

নরেন্দ্রনাথের বক্তব্য, ‘‘যাঁরা এমন লিখেছেন, তাঁরা ভুল করেছেন। দলের কর্মীদের ‘জোড়াফুলকে চাই’ লিখতে বলা হয়েছে। দলের টিকিট দেবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ঠিক করবেন, কাকে কোথায় টিকিট দেওয়া হবে, কাকে সাংগঠনিক কাজে পাঠানো হবে। যাঁকেই প্রার্থী করা হবে, দলের সমস্ত নেতা-কর্মী তাঁর পাশে থাকবেন, এটাই তৃণমূলের অনুশাসন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন