দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। —ফাইল চিত্র।
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাব আনার জন্য নোটিসে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ফেলেছে বিরোধীরা। সূত্র উল্লেখ করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট এবং বৈষম্যমূলক আচরণ-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। নোটিসটি আগামী এক বা দু’দিনের মধ্যে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় জমা দেওয়া হতে পারে।
সূত্রের খবর, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নোটিসে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণ ছাড়াও সেই তালিকায় রয়েছে নির্বাচনে জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাধা দেওয়া, ভোটাধিকার বঞ্চনার মতো অভিযোগ। এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল এক বরিষ্ঠ বিরোধী সাংসদ জানান, স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবারই জ্ঞানেশের অপসারণ সংক্রান্ত নোটিসটি সংসদে জমা দেওয়া হতে পারে। আর এক সাংসদের মতে, সংসদের উভয়কক্ষে নোটিস জমা পড়তে পারে শুক্রবারও।
সূত্রের খবর, লোকসভায় জ্ঞানেশের অপসারণ সংক্রান্ত যে নোটিস জমা দেওয়া হবে, তাতে এখনও পর্যন্ত ১২০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। রাজ্যসভার নোটিসটিতে স্বাক্ষর করেছেন ৬০ জন। নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চাইতে হলে লোকসভার নোটিসে কমপক্ষে ১০০ জন এবং রাজ্যসভার নোটিসে কমপক্ষে ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর দরকার হয়। ফলে প্রয়োজনীয় সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছে বিরোধীরা। মূলত বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরাই এই নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন। আম আদমি পার্টি আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই জোটে নেই। তবে আপ সাংসদেরাও জ্ঞানেশের অপসারণের নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন। পিটিআই জানিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে এই প্রথম কোনও নোটিস আসছে সংসদে।
দেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হওয়ার পর থেকেই বিরোধী দলগুলির নিশানায় জ্ঞানেশ। অভিযোগ, তিনি বিজেপির কথায় কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে এসআইআর-এ বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে। বিশেষ ভাবে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়ায় জ্ঞানেশ এবং তাঁর নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল। এসআইআর-এর মাধ্যমে নাম কাটার প্রতিবাদে কলকাতায় ধর্নাতেও বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অপসারণের পদ্ধতি সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের মতোই। অসদাচরণ বা অক্ষমতা প্রমাণ করতে পারলেই ইমপিচমেন্ট সম্ভব। না হলে নয়। প্রথমে অপসারণের প্রস্তাব লোকসভা এবং রাজ্যসভায় পেশ করতে হয়। সেখানে মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যের দুই তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রস্তাব পাশ হওয়া চাই। শোনা যাচ্ছে, সংসদে জ্ঞানেশের অপসারণ প্রস্তাবের মূল উদ্যোক্তা পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলই।