—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি। ফাইল চিত্র।
উত্তাপ কমবে না।
রবিবারের বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অপসারণ প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নীরবই থেকেছেন তিনি। তবে পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্যের নির্বাচন নির্ঘণ্ট প্রকাশ করার পর সংসদে তাঁকে অপসারণের জন্য আনা প্রস্তাব এবং বিক্ষোভ একই রকম ভাবে চলবে বলে জানাচ্ছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর যে প্রক্রিয়া সংসদের দু’টি কক্ষে বিরোধীরা সম্মিলিত ভাবে শুরু করেছে, সেই তাওয়া গরমই থাকবে। চলতি সংসদীয় অধিবেশনের এখনও দু’সপ্তাহ রয়েছে। আমরা যে কোনও দিন আবারও বিষয়টি নিয়ে সরব হব। এ ব্যাপারে আমাদের সম্পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে।’’ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিজেডি-ও আলাদা বিবৃতি দিয়ে দাবি তুলেছে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের।
পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমে দলীয় সভার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্পের ঘোষণা এবং শিলান্যাস অবধি অপেক্ষা করে ভোট ঘোষণা নিয়েও কটাক্ষ করছে কংগ্রেস এবং তৃণমূল। বলা হচ্ছে, আগেও বহু বার এমনটা হয়েছে। এ বারেও শাসক দল তথা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি পক্ষপাতে অটল রইলেন জ্ঞানেশ। প্রসঙ্গত এই বিষয়গুলি নিয়ে তাঁকে প্রশ্নও করা হয়। তবে তার কোনও জবাব দেননি তিনি।
শুক্রবার ও শনিবার অসমে ও পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দফতর কর্মসূচি ঘোষণা করার অনেক আগেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর ১৪ মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক শিবির তখনই বলেছিল, এর অর্থ ১৪ মার্চের পরেই নির্বাচন কমিশন পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে। না হলে আদর্শ আচরণবিধি জারি হলে গেলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নতুন প্রকল্প উদ্বোধন করা সম্ভব হবে না। বাস্তবে সেটাই হয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির পরেই রবিবার নির্বাচন ঘোষণা করে দিয়েছে।
তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলছেন, ‘‘অসম আর বাংলায় মোদীর শিলান্যাস শেষ করার ঠিক পরই ছুটির দিনে ভোট ঘোষণা করা নেহাতই সমাপতন নয়। সিনেমার মতো টাইমিং করা হয়েছে যেন! নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি সরকার ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ করেছে।’’ কংগ্রেস নেতা পবন খেরার কথায়, ‘‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুষ্ঠান গুয়াহাটিতে শেষ হল বিকেল ৩টের সময় আর ভোট ঘোষণা হল ৪টেয়। গোটা দেশ নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের এই যুগলবন্দি দেখছে। তবে তারা যতই চেষ্টা করুক, অসমের মানুষ এ বার পরিবর্তনের ভোট দেবে।’’ অন্য দিকে আজ সকালেই কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের বক্তব্য, ‘‘এক নম্বর সরকারের শিলান্যাস, প্রকল্প উদ্বোধন, ফিতে কাটা, পতাকা ওড়ানো হয়ে যাওয়ার পর দু’নম্বর সরকারকে ভোট ঘোষণার ব্যাপারে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি চালু হচ্ছে। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে দেশে মোদীর প্রচারবিধি চালু রয়েছে যা বিদ্বেষ, কুবাক্য, মানহানি, আতঙ্ক ছড়ানো এবং মিথ্যার ভাইরাসে পূর্ণ।’’
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোট ঘোষণার ঠিক আগেই সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। মোদী রাজ্যে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন। এই নিয়ে প্রশ্ন তোলায় জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্য, ভোট ঘোষণার পরই আচরণবিধি জারি হয়। তার আগে কে কী ঘোষণা বা উদ্বোধন করলেন, তা এই বিধির মধ্যে পড়ে না।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে