(বাঁ দিকে) ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত সেই মানচিত্র, এখন যা মুছে দেওয়া হয়েছে। শাহবাজ় শরিফ (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভারতের মানচিত্রে পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-কে দেখানোয় আমেরিকার কাছে নালিশ জানিয়েছিল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজ়েন্টেটিভ বা বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতরের তরফে ভারতের ওই মানচিত্রটি পোস্ট করা হয়েছিল। বুধবার অবশ্য মানচিত্র সংবলিত পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। ইসলামাবাদের আপত্তির কারণেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ওই মানচিত্রটি (সমাজমাধ্যমের) কয়েকটি হ্যান্ডলে রাখা হয়েছিল। আমরা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁরা বুঝতে পারেন, ওই মানচিত্রটি ভুল।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, আন্তর্জাতিক মানচিত্রে পাকিস্তান এবং ভারতের এলাকাকে স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেটি রাষ্ট্রপুঞ্জের দ্বারাও স্বীকৃত। আপনি যদি রাষ্ট্রপুঞ্জের ওয়েবসাইটে যান, তা হলে আপনি আসল মানচিত্রটি দেখতে পাবেন।”
৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ভারত এবং আমেরিকা যৌথ ভাবে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতায় সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। তার পরেই আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজ়েন্টেটিভ বা বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতরের তরফে সমাজমাধ্যমে ভারতের মানচিত্রের ছবি পোস্ট করা হয়। সবুজ প্রেক্ষাপটের উপর হলুদ রেখায় আঁকা ওই মানচিত্রে সমগ্র কাশ্মীরকেই দেখানো হয়েছিল। দেখানো হয়েছিল বিতর্কিত পিওকে এবং আকসাই চিনকেও।
৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ভারত এবং আমেরিকা যৌথ ভাবে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতায় সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। তার পরেই আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজ়েন্টেটিভ বা বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতরের তরফে সমাজমাধ্যমে ভারতের মানচিত্রের ওই ছবিটি পোস্ট করা হয়। সবুজ প্রেক্ষাপটের উপর হলুদ রেখায় আঁকা ওই মানচিত্রে সমগ্র কাশ্মীরকেই দেখানো হয়েছিল। দেখানো হয়েছিল বিতর্কিত পিওকে এবং আকসাই চিনকেও।
প্রসঙ্গত, পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তান এবং আকসাই চিনকে চিন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে থাকে। ভারত অবশ্য বার বারই বলে এসেছে যে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই অংশ। ১৯৪৭ সাল থেকে কাশ্মীরের ওই অংশকে অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছে পাকিস্তান। অন্য দিকে, আকসাই চিনকেও লাদাখের পূর্বতম অংশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয় নয়াদিল্লি। বেজিঙের যদিও দাবি, ওই এলাকা তাদের ভূখণ্ডের মধ্যে পড়ে।
অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতার পর ট্রাম্পের দেশ থেকে কোন কোন পণ্য অল্প শুল্কে বা কোনও শুল্ক ছাড়াই ভারতে ঢুকবে, তা দেখাতেই মানচিত্রটি প্রকাশ করেছিল আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজ়েন্টেটিভের দফতর। কিন্তু মানচিত্রে যে ভাবে ওই দুই বিতর্কিত অংশকে ভারতের মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা দেখে মনে করা হয়েছিল যে, চিন এবং পাকিস্তানকে যথাযথ বার্তা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে পিওকে এবং আকসাই চিন ভারতেরই অংশ। তবে পোস্টটি মুছে ফেলার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে আমেরিকার তরফে প্রকাশিত মানচিত্রে ওই দুই অংশকে আলাদা হিসাবে দেখানো হয়েছিল।
যদিও ভারত সার্বভৌম রাষ্ট্র। তার ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের বৈধতা আমেরিকার সম্মতির উপর নির্ভর করে না। ভারত সর্বদাই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর এ দেশেরই অংশ। তবে হোয়াইট হাউসের সিলমোহর ভারতের এই সংক্রান্ত অবস্থানকে আরও পোক্ত করত বলেই মত অনেকের।