বিজয় মাল্যের ব্যাঙ্ক ঋণের ‘গ্যারান্টার’ এই ছোট চাষি!

বিজয় মাল্যের নেওয়া ব্যাঙ্ক-ঋণের ‘গ্যারান্টার’ এক জন গরীব কৃষক! ব্যাঙ্কের ঋণ নিতে গিয়ে এক গরীব কৃষককে তাঁর ‘গ্যারান্টার’ করেছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি বিজয় মাল্য!

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০১৬ ২১:০৪
Share:

বিজয় মাল্যের নেওয়া ব্যাঙ্ক-ঋণের ‘গ্যারান্টার’ এক জন গরীব কৃষক!

Advertisement

ব্যাঙ্কের ঋণ নিতে গিয়ে এক গরীব কৃষককে তাঁর ‘গ্যারান্টার’ করেছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি বিজয় মাল্য!

মানে, মাল্য যদি দেনা শুধতে না পারেন, তাঁর হয়ে ব্যাঙ্ককে তাঁর কোটি কোটি টাকার ধার শুধে দেবেন এক গরীব গুর্বো কৃষক! আর ব্যাঙ্ক সেটা বিশ্বাসও করেছিল। মাল্যের মতো কোনও এক মান্যগণ্য যদি তাঁর ঋণখেলাপির কথা ভেবে কাউকে ‘গ্যারান্টার’ বলে ঘোষণা করে থাকেন, তা হলে তার সত্যাসত্য কি যাচাই করার ধৃষ্টতা দেখাতে পারে কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্ক?

Advertisement

হালে তার মাশুল গুনতে হয়েছে পিলিভিতের এক গরীব কৃষককে। যাঁর নামে ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় থাকা দু’টি সেভিংস অ্যাকাউন্টই ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছিল। কেন? কারণ, ব্যাঙ্কের ঋণ শুধতে না পেরে যিনি দেশান্তরী হয়ে রয়েছেন, সেই মাল্যের ‘গ্যারান্টার’ তিনি।

তাঁর নাম- মনমোহন সিংহ। তিনি পিলিভিতের ভিলসিন্দায় খাজুরিয়া-নিবিরাম গ্রামের এক গরীব কৃষক। যাঁর ৮ একর চাষের জমি রয়েছে। কিন্ত সেই জমিতে চাষ করার তেমন আর্থিক সঙ্গতি তাঁর ছিল না বলে তিনি বছরকয়েক আগে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার নন্দগাঁও শাখা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন ৪ লক্ষ টাকা। তার পর থেকে তিনি নিয়মিত সুদও দিয়ে গিয়েছেন। দিনকয়েক আগেই সুদের ৩২ হাজার টাকা তিনি জমা দিয়ে এসেছিলেন ব্যাঙ্কে। কিন্তু তার পরেই যখন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানান, তাঁর দু’টি অ্যাকাউন্টই ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে, তখন মনমোহন রীতিমতো চমকে যান। হয়ে পড়েন আতঙ্কিত। কারণ, তা হলে তিনি টাকা তুলতে পারবেন না। জমাও দিতে পারবেন না।

Advertisement

ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, মুম্বইয়ে ব্যাঙ্কের সদর দফতর থেকে তাঁর দু’টি অ্যাকাউন্টই ‘ফ্রিজ’ করে দিতে বলা হয়েছে। আর সেই নির্দেশ পাওয়ার পর তা তড়িঘড়ি করেও দেওয়া হয়েছে। ওই কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে মনমোহনের। তিনি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে বোঝান, তিনি কোনও দিনই মুম্বইয়ে যাননি। মাল্যকে কোনও দিন সামনাসামনি দেখেনওনি। ঋণখেলাপি আর দেশান্তরী হওয়ার পর কাগজে কাগজে যখন ছবি ছাপা হতে শুরু করল, তখনই তিনি মাল্যের নামধাম জেনেছেন। তাঁর ছবিটবি দেখেছেন। সব শুনে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বুঝতে পারেন, ওই গরীব কৃষকের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেয়েছেন মাল্য! এর পর গোটা বিষয়টি তিনি জানান তাঁর সদর দফতরে। তাতে কাজ হয়। গরীব কৃষক মনমোহনের দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই আবার চালু করে দেওয়া হয়েছে।

স্বস্তি ফিরে এসেছে মনমোহনের চোখে-মুখে।

ঘনিষ্ঠ মহলে মনমোহন নাকি বলেছেন, ‘‘মাল্যকে কোনও দিন ভুলব না!’’

ভোলা যায় নাকি?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement