প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফাইল চিত্র।
প্রথমে বলতে হবে, ‘আমি কী করেছি?’ অথবা ‘আমি কী করতে পারি?’ তার পরে বলতে পারেন, ‘অন্যরা কী করতে পারেন?’ এই দু’টি বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত মন্ত্রকের বক্তব্য শুনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার মন্ত্রকের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা ‘সেবাতীর্থে’ মঙ্গলবার বিকেলে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ‘বড় মাপের’ রদবদল নিয়ে গোটা বিজেপি শিবির যখন উৎকণ্ঠায়, তখন আচমকা কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত মন্ত্রকের সচিবদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠেছে, সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করে কি আসলে মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর? তার ভিত্তিতেই কি মন্ত্রিসভার রদবদল হবে? সরকারি সূত্রের ব্যাখ্যা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃতীয় দফার সরকারে সংস্কারে জোর দিচ্ছেন। ‘সংস্কার এক্সপ্রেস’-এর কথা বলে সংস্কারে গতি আনতে চাইছেন। ক্যাবিনেট সচিবালয় থেকে সমস্ত মন্ত্রকের সচিবদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, মূলত তিনটি বিষয়ে সচিবদের মত ও পরামর্শ জানতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। এক, ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা ও জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য কোথায় কী ধরনের লাল ফিতের ফাঁস কাটানো যায় বা সংস্কার করা সম্ভব। দুই, আত্মনির্ভরতায় জোর। এই নিয়েই সচিবদের কাছে প্রশ্ন রাখা হবে, তাঁরা কী করেছেন অথবা তাঁরা কী করতে পারেন। এর পরে অন্যরা কী করতে পারেন, তা নিয়েও সচিবরা মত জানাতে পারেন। প্রাথমিক ভাবে মাথাপিছু সময় মিলবে মাত্র তিন মিনিট। ক্যাবিনেট সচিবালয়ের এই বার্তা পেয়ে সোমবারই মন্ত্রকের সচিবরা তাঁদের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিবদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, একসঙ্গে বসে মাথা খাটিয়ে বিকেলের মধ্যে তাঁদের মতামত জানাতে। তার উপরে ভিত্তি করে সচিবরা নিজেদের মতামত প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবেন।
মোদী সরকারের একাংশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবদের এই বৈঠকের সঙ্গে মন্ত্রিসভার রদবদলকে এক সূত্রে জুড়ে দেখছেন। অন্য অংশের মধ্যে সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে মন্ত্রিসভার রদবদল আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, হাতে খুব একটা সময় নেই। আপাতত বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল সেরে ফেলে মন্ত্রিসভার রদবদল সংসদের অধিবেশনের পরে অগস্ট বা সেপ্টেম্বরে হওয়ারও সম্ভাবনা থাকছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে