(বাঁ দিকে) পিওকে-র বাসিন্দা জ়িশান মিরের সঙ্গে তাঁর প্রেমিকা বারামুলার ইরুম বানো। ছবি: সংগৃহীত।
কাঁটাতার দিয়ে ভালবাসা ভাগ করা যায় না! তা আবার প্রমাণ হল কাশ্মীরে। তবে এখানে শুধু ভালবাসা নয়, সঙ্গে রয়েছে পৈতৃক সম্পত্তির দাবিও। এই দুই টানে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) বাসিন্দা জ়িশান মির নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন কাশ্মীরের বারামুলা জেলায়। তবে ধরা পড়ে যান ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। এক মাস পর শনিবার কামন আমন সেতুতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তাঁকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জম্মু-কাশ্মীরের সেনাবাহিনীর চিনার কোর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বিষয়টি জানিয়েছে। তাদের বয়ান অনুযায়ী, গত ৩১ মে কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিলেন জ়িশান। তদন্তকারী কর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সংসারে আর্থিক টানাটানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ২২ বছর বয়সি ওই যুবক। জীবিকার খোঁজে ঘুরছিলেন তিনি। সেই সময়ই সমাজমাধ্যমে বারামুলার বাসিন্দা ইরুম বানোর সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। সেই আলাপ প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়।
ক্রমে বানো জানতে পারেন, জ়িশানের পূর্বপুরুষেরা ওই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সেখানে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিও আছে। তখনই দু’জনে মিলে পরিকল্পনা করেন। ঠিক হয়, জ়িশান নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে বারামুলায় ঢুকবেন। তবে তাঁকে যাতে অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দিতে না-পারে সেই জন্য সরাসরি ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। অবৈধ প্রবেশের কারণে যদি কোনও সাজা হয়, তা ভোগ করতেও প্রস্তুত ছিলেন জ়িশান। পরিকল্পনা ছিল, মুক্তির পর তিনি সেনাবাহিনীর কাছে আবেদন করে বারামুলায় তাঁর পৈতৃক ভিটেতে যাবেন। আইনি দাবি করবেন। আর বানোর গ্রামেই থেকে যাবেন। সেখানেই বিয়ে করে সংসার পাতার স্বপ্ন বুনেছিলেন এই যুগল।
জ়িশানকে আটক করার পর তাঁর দাবির সত্যতা যাচাই করতে বানোকে তলব করা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর কাছে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধও করেন, যাতে জ়িশানকে ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তাঁর বয়ানের সত্যতা যাচাই শুরু করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। জ়িশানের অনুপ্রবেশের নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হয়। নিশ্চিত হওয়ার পরেই শনিবার তাঁকে মুক্তি দেয় ভারতীয় সেনা। শনিবার কামন আমন সেতুতে জ়িশানকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। চিনার কোর জানিয়েছে, ওই যুবক যত দিন ভারতে ছিলেন, তাঁর সঙ্গে মানবিকতার খাতিরে সহানুভূতি এবং যথাযথ আচরণ করা হয়েছিল।