Lucknow Murder

লখনউ হত্যাকাণ্ড: অনলাইনে ছুরি, করাত এবং ড্রাম কেনেন, বাবাকে খুনের পর পিৎজ়া খান, দেওয়ালে রক্তের দাগও মোছেন ব্যবসায়ী-পুত্র!

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মানবেন্দ্রকে খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে দেওয়ালে রক্তের দাগ মুছে ফেলার জন্য দোকান থেকে রং কিনে নিয়ে এসে দেওয়ালে রং করে দেন। বিছানার চাদর পুড়িয়ে ফেলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৮
Share:

(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত যুবক অক্ষত সিংহ। (ডান দিকে) অক্ষতের বাবা মানবেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত।

বাবাকে খুনের দু’দিন আগে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দু’টি ছুরি, একটি করাত এবং নীলরঙা একটি ড্রাম আনিয়েছিলেন অভিযুক্ত পুত্র অক্ষত সিংহ। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র সিংহ খুনে নয়া তথ্য পেল পুলিশ।

Advertisement

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি বিয়েবাড়ি থেকে ফেরেন মানবেন্দ্র। তিনতলা বাড়ির উপরের তলে কন্যা কীর্তি এবং পুত্র অক্ষতের সঙ্গে থাকতেন তিনি। বাড়ির দোতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন মানবেন্দ্রের ভাই। আর নীচের তলাটা খালি পড়ে থাকে। কোনও অতিথি এলে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, মানবেন্দ্রকে খুনের দু’দিন আগে অনলাইনে ছুরি, করাত কিনে আনেন অক্ষত। নীল ড্রামও কেনেন। তার পর সেগুলি সকলের অজান্তে বাড়িতেই লুকিয়ে রাখেন। শুধু তা-ই নয়, ১০ লিটার কেরোসিন তেলও কিনে এনেছিলেন অক্ষত।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ১৯ ফেব্রুয়ারি মানবেন্দ্রের সঙ্গে অক্ষতের বচসা হয় পড়াশোনা নিয়ে। তার পর মানবেন্দ্র শুতে চলে যান। কিন্তু অক্ষত জেগে ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টেয় মানবেন্দ্রের লাইসেন্সড রাইফেল বার করেন অক্ষত। তার পর মানবেন্দ্রের ঘরে ঢোকেন। পাশের ঘরে তাঁর বোন কীর্তি শুয়ে ছিল। গুলির আওয়াজ পেতেই সে বেরিয়ে আসে। বাবার ঘরে ঢুকে আঁতকে ওঠে। দাদার হাতে রাইফেল ধরা, রক্তে ভাসছে বিছানা। গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে রয়েছেন বাবা। এই দৃশ্য দেখে চিৎকার করতে যেতেই কীর্তিকে বন্দুক দেখিয়ে শাসান অক্ষত। কীর্তি ভয়ে গুটিসুটি মেরে যায়। তদন্তকারীদের কীর্তি জানিয়েছে, মানবেন্দ্রের দেহ টানতে টানতে নীচের তলায় নিয়ে যান তার দাদা। গাড়ির ডিকিতে ঢোকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দেহ ভারী হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন। তার পর দেহটিকে টেনে নিয়ে নীচের তলার ঘরে ঢুকিয়ে তালাবন্ধ করে দেন। কাকপক্ষীতেও টের পায়নি ভোর ৪টে থেকে কী কী হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সকাল হতেই অনলাইনে পিৎজ়া অর্ডার করেন অক্ষত। নিজের এবং বোনের জন্য। তার পর সেই পিৎজ়া খান। খাওয়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বাজার থেকে একটি ধারালো অস্ত্রও কিনে নিয়ে আসেন। তার পর নীচের তলার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।

Advertisement

তার পর আবার বার হন। বেরিয়ে থানায় গিয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে আসেন। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, মানবেন্দ্রের নিখোঁজের খবর নিজেই আত্মীয় এবং পরিচিতদের জানান। একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপ খোলেন। সেই গ্রুপের নাম দেন ‘পাপা লওট আও’। সেখানে আবেগমেশানো বেশ কিছু মেসেজ পোস্ট করেন। পুলিশ মানবেন্দ্রের খোঁজ চালাতে থাকে। তার মধ্যে মানবেন্দ্রের হাত, পা এবং মাথা কেটে আলাদা করেন অক্ষত। তার পর সেগুলি ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে গাড়ি করে পাশের গ্রামে ফেলে দিয়ে আসেন। দেহের বাকি অংশ নীল ড্রামের মধ্যে ভরে রাখেন। সেটিও টুকরো করে ফেলে আসার পরিকল্পনা ছিল অক্ষতের। তদন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, মানবেন্দ্রকে খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে দেওয়ালে রক্তের দাগ মুছে ফেলার জন্য দোকান থেকে রং কিনে নিয়ে এসে দেওয়ালে রং করে দেন। বিছানার চাদর পুড়িয়ে ফেলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement