এই রেলিং ভেঙে খাদে পড়েছিল গাড়ি। (ইনসেটে) মৃত যুবরাজ মেহতা। ছবি: সংগৃহীত।
উত্তরপ্রদেশের নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ মেহতার মৃত্যুর তিন দিন পর রাস্তার পাশে থাকা ওই ৫০ ফুট গভীর জলাশয় থেকে তাঁর গাড়িটি উদ্ধার করল পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ প্রায় ১২ জন গাড়িটিকে উদ্ধার করেন।
যে জলাশয়ে পড়ে যুবরাজের মৃত্যু হয়েছে, নির্মণকাজের জন্য সেখানে বিশালাকার গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। সেই গর্তের গভীরতা ৫০ ফুট। সেখানে বৃষ্টির জল জমে জলাশয়ে পরিণত হয়েছিল। সেই জলাশয়ের পাশ দিয়েই রাস্তা গিয়েছে। মঙ্গলবার গৌতম বুদ্ধ নগরের চিফ ফায়ার অফিসার প্রদীপ কুমার সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানান, গর্তে কাদা এবং লোহার রড থাকায় গাড়িটি উদ্ধার করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। নৌকা, ক্রেন এবং বড় চুম্বক ব্যবহার করে প্রায় ১২ জন কর্মী এই অভিযানে ছিলেন। প্রদীপ জানান, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, স্থানীয় পুলিশ এবং দমকল বিভাগ এই উদ্ধার অভিযানে যুক্ত ছিল। দুপুর আড়াইটে নাগাদ মৃত যুবরাজের ব্যবহৃত গাড়িটির হদিস পাওয়া যায়। এর পর শুরু হয় উদ্ধারকাজ। গ্রেটার নয়ডার উপপুলিশ কমিশনার হেমন্ত উপাধ্যায় জানান, একাধিক সংস্থার কর্মী এই অভিযানে যোগ দেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ গাড়িটি গর্ত থেকে তোলা সম্ভব হয়। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাজীব মিশ্র জানান, রাজ্যে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রধান ভানু ভাস্কর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মঙ্গলবার যুবরাজের মৃত্যুর ঘটনায় ইমারত ব্যবসায়ী অভয় কুমারকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। আরও এক ব্যবসায়ী মণীশ কুমারের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় নয়ডা অথরিটির সিইও লোকেশ এমকে কম্পালসরি ওয়েটিংয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে শোকজ় করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে রাস্তার পাশে থাকা ৫০ ফুট গভীর জলাশয়ে গাড়ি নিয়ে পড়ে মৃত্যু হয় যুবরাজের। সেই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। যেখানে দুর্ঘটনারটি ঘটেছে, সেই জায়গায় রাস্তাটি ৯০ ডিগ্রি বাঁক নিয়েছে। কোনও দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য ওই বাঁকের মুখে কোনও গার্ডরেল বা সতর্কবার্তা ছিল না। তার মধ্যে কুয়াশার কারণে বাঁকটাও ঠিকমতো ঠাওর করা যায়নি সে দিন। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি জলাশয়ের মধ্যে পড়ে। যুবরাজ একা নন, এই বাঁকের কাছে আরও এক ট্রাকচালক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন। তাঁর ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা দেওয়ালে ধাক্কা মেরে জলাশয়ের উপর ঝুলতে থাকে।