ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেন। ছবি: রয়টার্স।
ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার এই দাবি করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেন। তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত এবং ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি সইয়ের দোরগোড়ায় রয়েছে। এর ফলে ২০০ কোটি মানুষের এক নতুন বাজার তৈরি হবে। যা বিশ্বের মোট জিডিপির এক-চতুর্থাংশ।’’
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ভারত সফরে আসার কথা জানিয়ে উরসুলা বলেন, ‘‘দাভোসের ঠিক পরে আমি ভারত সফরে যাব। এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। তবে আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তির দোরগোড়ায় রয়েছি। কেউ কেউ এটিকে ‘সকল চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করছেন।’’ অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এক দিকে চিনের আগ্রাসী অর্থনীতি ও একচেটিয়া উৎপাদননীতি, অন্য দিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্কনীতি নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে ইইউ। একই সমস্যার মুখে ভারতও। এই আবহে দ্রুত মুক্ত দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি রূপায়ণের তাগিদ রয়েছে দু’তরফেরই।
কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ২৭ জানুয়ারি ওই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি সই হতে পারে। ২৫ তারিখ তিন দিনের নয়াদিল্লি সফরে আসছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিয়ো লুই সান্তোস ডি কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা। ২৭ তারিখ ভারত-ইইউ সম্মেলনে যোগ দেবেন ইউরোপের এই দুই শীর্ষ নেতা। বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি, দুই পক্ষের কৌশলগত অংশীদারি বাড়াতে নতুন-নতুন ক্ষেত্রের সন্ধান করা হবে আসন্ন সফরে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁদের পৃথক বৈঠক হবে। পাশাপাশি, অনুষ্ঠিত হবে উভয় পক্ষের বাণিজ্য সম্মেলনও।
বাণিজ্য মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে দর কষাকষির প্রক্রিয়া যে হেতু গড়িয়েই চলেছে, তাই ইউরোপের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি সারার চেষ্টা করছে ভারত। লক্ষ্য হল, ভারতীয় পণ্যে ট্রাম্পের চাপানো শুল্কের ফলে রফতানিকারীদের যে ধাক্কা লাগছে, তাকে ব্রিটেন, ইইউ-এর সঙ্গে বাণিজ্য দিয়ে কিছুটা সামলানো। জানা গিয়েছে, ইউরোপের সঙ্গে চুক্তিতে কৃষিপণ্যের মতো বিতর্কিত ক্ষেত্রগুলি বাদই রাখা হচ্ছে। ভারতের মোট রফতানির ১৭ শতাংশ হয় ইউরোপে। আমদানি ৯ শতাংশের সামান্য বেশি। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে নয়াদিল্লি।