—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
জনগণনার প্রথম পর্বের কাজ ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে। তার ৪৮ ঘণ্টা আগেও পশ্চিমবঙ্গে কবে জনগণনার কাজ শুরু হবে, সেই উত্তর মিলল না। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এখনও রাজ্যে জনগণনার জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তিই জারি করেনি। বাকি সব রাজ্যের মতো নোডাল অফিসার, জনগণনা আধিকারিকও নিয়োগ করেনি। অতীতে আর কখনও এমন হয়নি যে একটি রাজ্যে সরকারি বিজ্ঞপ্তিই জারি না হওয়ায় সেখানে জনগণনা করা যাচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় সরকারের আশা, বিধানসভা নির্বাচনের পরে আশার আলো দেখা দিতে পারে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে জনগণনার বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। তৃণমূলই ক্ষমতায় ফিরলে, জনগণনা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব অন্তত ভোটের পরে নরম হতে পারে। জনগণনার প্রথম পর্বে গৃহতালিকা তৈরি ও গৃহগণনার জন্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। ফলে ভোটের পরে বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও সেপ্টেম্বরের আগে জনগণনার প্রথম পর্বের কাজ শেষ করা সম্ভব।
আজ দেশের জনগণনা কমিশনার তথা রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ এ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দিল্লিতে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ এখনও জনগণনার বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। আমরা এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করা হচ্ছে, রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। কারণ, জনগণনা আইনি অনিবার্য প্রক্রিয়া। আমাদের হাতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে।’’ এর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বুঝিয়ে নারায়ণ বলেন, ‘‘জনগণনা সংবিধানের সপ্তম তফসিলে কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত বিষয়। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন, ১৯৯০ সালের জনগণনা বিধি অনুযায়ী এই কাজ হয়।’’ সরকারি সূত্রের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী, কেন্দ্র গত বছরের ১৬ জুন জনগণনার বিজ্ঞপ্তি জারি করার পরে আইন অনুযায়ী সব রাজ্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নোডাল অফিসার, জনগণনা আধিকারিক নিয়োগ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ এর কিছুই করেনি।
দিল্লির জনগণনা ভবনের কর্তাদের বক্তব্য, অতীতে ১৯৮১ সালের জনগণনার সময় অসমে হিংসার জন্য ওই রাজ্যে জনগণনা করা যায়নি। ১৯৯১ সালের জনগণনায় জম্মু-কাশ্মীরে অশান্তির জন্য জনগণনা হয়নি। অতীতের পরিসংখ্যান থেকে অঙ্ক কষে সম্ভাব্য জনসংখ্যা ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও রাজ্য জনগণনার বিজ্ঞপ্তি জারি না করায় জনগণনা আটকে থেকেছে, এমন অতীতে হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে অঙ্ক কষে সম্ভাব্য জনসংখ্যা হিসেব করা হলে, তা রাজ্যের বাস্তব জনসংখ্যার থেকে কম ধরা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাজ্যের জন্য কেন্দ্রীয় করের ভাগ, সরকারি প্রকল্পে অনুদান থেকে লোকসভায় রাজ্যের সাংসদ সংখ্যা নির্ধারণ, সব ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত হবে।
কেন জনগণনার কাজে রাজ্য সরকারের আপত্তি, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল নেতৃত্ব মুখ খোলেননি। রাজ্যের আমলাদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী সিএএ-এনপিআর-এনআরসি-র বিরুদ্ধে। জনগণনা দফতরই সিএএ, এনপিআরের দায়িত্বে। রাজ্যে এসআইআর-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার আসলে এনআরসি করছে বলেই তৃণমূল নেতৃত্বের মত। তার উপরে এ বার জনগণনার সঙ্গে জাতগণনা হওয়ার কথা। জাতগণনা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি রয়েছে।
আজ জনগণনা কমিশনার জানান,এনপিআর (ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার) হালনাগাদ বা ‘আপডেট’ করার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।জাতগণনার কাজ হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্বে। জাতগণনার জন্য কীপ্রশ্ন করা হবে, তা সে সময়ে ঠিক হবে।২০২৭-এর ফেব্রুয়ারি মাসে এই কাজ হবে। জনগণনা শেষ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে। ২০২৭-এর ১ মার্চ জনসংখ্যার হিসেবের নির্দিষ্ট দিন বা ‘রেফারেন্স ডেট’ ঠিক করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের ব্যাখ্যা, রাজ্যগুলি এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে যে কোনও ৩০ দিন বেছে নিয়ে গৃহতালিকা তৈরির কাজ করতে পারে। তার আগে ১৫ দিন স্ব-গণনার জন্য সময় দেওয়া হবে। যেখানে পরিবারের প্রধান নিজেই ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিজের তথ্য জমা করতে পারেন।
অনেক রাজ্য এপ্রিল থেকেই কাজ শুরু করছে। নয়াদিল্লিতে এপ্রিলের দ্বিতীয়ার্ধে কাজ হবে। দিল্লির বাকি এলাকায় এই কাজ হবে মে মাসে। আবার মণিপুরে কাজ হবে সেপ্টেম্বরে। তাই পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পরে কাজ শুরু হলেও, সেপ্টেম্বরের আগে এই কাজ শেষ করা সম্ভব। যদিও জনগণনার প্রথম দফায় গৃহতালিকা তৈরি ও গৃহগণনার যে কাজ হয়, তার মহড়া বা ‘প্রি-টেস্ট’ পশ্চিমবঙ্গে করা যায়নি। দেশের বাকি রাজ্যে গত নভেম্বরে এই কাজ হয়ে গিয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে