Operation Sindoor Colonel Sofiya Qureshi

রাষ্ট্রপতি পদক পাচ্ছেন কর্নেল সোফিয়া! সিঁদুর অভিযান শুরুর অনেক আগেই থেকেই ভারতীয় সেনায় নজর কাড়ে তাঁর সাফল্য

১৯৭৪ সালে গুজরাতের বডোদরায় জন্ম সোফিয়ার। ১৯৯৭ সালে জৈবরসায়ন নিয়ে স্নাতোকত্তর করেন। বর্তমানে ভারতীয় সেনার সামরিক যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক্স অভিযান সহায়ক শাখা সিগন্যাল কোরের অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক সোফিয়া।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৮
Share:

ভারতীয় সেনার কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। —ফাইল চিত্র।

দেশের সামরিক বাহিনীতে বিশেষ অবদানের জন্য এ বার রাষ্ট্রপতির পদক পাচ্ছেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। বিশিষ্ট সেবা পদক দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। গত বছর সিদুঁর অভিযানের সময়ে পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের প্রত্যাঘাতের প্রতিটি খুঁটিনাটির বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি। সিঁদুর অভিযানের প্রতিটি পদক্ষেপ কী ভাবে করা হয়েছে, কেন করা হয়েছে— তা সাংবাদিক বৈঠকে ব্যাখ্যা করেন কর্নেল সোফিয়া।

Advertisement

গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের হত্যাকাণ্ডের পরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিঘাঁটিগুলিতে প্রত্যাঘাত করেছিল ভারত। পরে দু’দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ বেধে যায়। অনেকের মতে, দেশের নারীশক্তি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতেই সেনার সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানে প্রত্যাঘাতের বিষয়টি নিয়ে জানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কর্নেল সোফিয়াকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বায়ুসেনার উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহও।

১৯৭৪ সালে গুজরাতের বডোদরায় জন্ম সোফিয়ার। ১৯৯৭ সালে জৈবরসায়ন নিয়ে স্নাতোকত্তর করেন। বর্তমানে ভারতীয় সেনার সামরিক যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক্স অভিযান সহায়ক শাখা সিগন্যাল কোরের অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক সোফিয়া। ৩৫ বছরের এই অফিসার সেনাবাহিনীর একাধিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত।

Advertisement

২০১৬ সালে তিনি প্রথম খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। ওই বছর ১৮টি দেশের সামনে ভারতের সামরিক মহড়ায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সোফিয়া। প্রথম মহিলা হিসাবে এই কৃতিত্ব তিনি অর্জন করেন। সে সময়ে সোফিয়া ছিলেন লেফ্‌টেন্যান্ট কর্নেল। পুণের ওই সামরিক মহড়া ছিল ভারতে আয়োজিত সবচেয়ে বড় বিদেশি সামরিক মহড়া। ২ থেকে ৮ মার্চের মহড়ায় যোগ দিয়েছিল জাপান, চিন, আমেরিকা, রাশিয়ার মতো দেশ। আর কোনও দেশের মহড়ার নেতৃত্বে মহিলা ছিলেন না।

এমনকি দেশের সুপ্রিম কোর্টেও এক মামলার শুনানিতে দৃষ্টান্ত হিসাবে উঠে এসেছিল কর্নেল সোফিয়ার নাম। সেনার স্থায়ী কমিশনে (পার্মানেন্ট কমিশন) মহিলার অফিসারদের নিয়োগ মামলা যখন সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছিল, সেই সময় আদালত কর্নেল সোফিয়ার প্রসঙ্গ টেনেছিল। কেন স্থায়ী কমিশনে মহিলা অফিসারদের নিয়োগ করা তা নিয়ে শুনানির সময়ে আদালত জানিয়েছিল, কর্নেল সোফিয়া ২০০৬ সালে কঙ্গোয় রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিবাহিনীর সামরিক পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দক্ষতার সঙ্গে কাজও করেন। এ বার সেই কর্নেল সোফিয়াকেই বিশিষ্ট সেবা পদক দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে সামরিক বাহিনীতে বিশেষ অবদানের জন্য পদকপ্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কর্নেল কুরেশি-সহ মোট ১৩৫ জনকে এ বছর বিশিষ্ট সেবা পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০ জনকে পরম বিশিষ্ট সেবা পদক, চার জনকে উত্তম যুদ্ধ সেবা পদক, ৫৬ জনকে অতি বিশিষ্ট সেবা পদক, ৯ জনকে যুদ্ধ সেবা পদক, ৪৩ জনকে সেনা পদক, আট জনকে নৌসেনা পদক এবং ১৪ জনকে বায়ুসেনা পদক দেওয়া হচ্ছে।

এ বছর অশোক চক্র পাচ্ছেন দ্বিতীয় ভারতীয় মহাকাশচারী বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্ল। এ ছাড়া তিন জনকে কীর্তি চক্র এবং ১৩ জনকে শৌর্য চক্র দেওয়া হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement