সেশেলসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে রবিবার বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: পিটিআই।
প্রায় ৩২০০ কিলোমিটার দূরের দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসের সঙ্গে ভারতকে জুড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বোঝালেন, ভারত মহাসাগর দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেনি। বরং, আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। রবিবার সেশেলসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বক্তৃতায় দু’দেশের সম্পর্কের গভীরতার কথা তুলে ধরেন তিনি। এই নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনসভা মিলিয়ে ২০ বার বক্তৃতা করা একমাত্র ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হলেন মোদী।
পূর্ব আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। তিন দিনের সফরে শনিবার সেশেলসে গিয়েছেন তিনি। রবিবার সে দেশের ‘গার্ডিয়ান অফ দ্য ব্লু হরাইজ়ন’-এ ভূষিত করা হয় মোদীকে। সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হার্মিনি এই সম্মানে ভূষিত করেন মোদীকে। পরে সে দেশের পার্লামেন্টে বক্তৃতার সময়ে এই সম্মানের জন্য সেশেলসবাসীকে ধন্যবাদ জানান মোদী।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে উদ্যোগী হয়েছেন মোদী। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে গত ১২ বছরে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। সেশেলসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার পরে ভারত সরকার জানায়, প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০ বার বিদেশি আইনসভায় বক্তৃতা করলেন মোদী।
ক্ষমতায় আসার পরে ২০১৪ সালে ফিজি, অস্ট্রেলিয়া, নেপাল এবং ভুটানের পার্লামেন্টে বক্তৃতা করেছেন তিনি। সেশেলসের পার্লামেন্টে বক্তৃতা ছিল ভিন্দেশের আইনসভায় তাঁর ২০তম বক্তৃতা। এই ১২ বছরে মার্কিন কংগ্রেসে দু’বার বক্তৃতা করেছেন তিনি। এ বছর ইজ়রায়েলের পার্লামেন্টেও বক্তৃতা করেছেন। এ ছাড়া ব্রিটেন, আফগানিস্তান, ইথিয়োপিয়া, নামিবিয়া, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, ঘানা, গুয়ানা, মলদ্বীপ, উগান্ডা, মঙ্গোলিয়া, মরিশাস এবং শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টেও বক্তৃতা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার সেশেলসের পার্লামেন্টে বক্তৃতার শুরুতেই দ্বীপরাষ্ট্রের সাধারণ জনতাকে শুভেচ্ছা জানান মোদী। তিনি বলেন, “প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে আসা আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের। আমি আপনাদের জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর শুভকামনা নিয়ে এসেছি।”
সেশেলসের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করান প্রধানমন্ত্রী। দ্বীপরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি বলেন, “আমাদের বন্ধুত্ব ৫০ বছর আগে শুরু হয়নি। এই বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে। ১৭৭০ সালের অগস্টে। ওই সময়ে টেলম্যাক জাহাজে করে যাঁরা সেন্ট অ্যান দ্বীপে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন ভারতীয় ছিলেন। তা পরবর্তী সময়ে আরও অনেককে পথ দেখিয়েছিল।”
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রথম যে দেশে সফরে গিয়েছিলেন মোদী, তা ছিল সেশেলস। সেই সফরের কথাও রবিবারের বক্তৃতায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ১১ বছর আগের ওই সফরের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে আমাদের যা পরিকল্পনা, তাতে একটি বিশেষ স্থান রয়েছে সেশেলসের। সেই কারণেই আমি এখানে এসেছিলাম। এখন এক দশক পরে আবার এখানে ফিরে এসে আমার সেই বিশ্বাস আগের চেয়েও দৃঢ় হয়েছে।”
ভারত এবং সেশেলসের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব যে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও বাধা হতে পারবে না, তা-ও স্পষ্ট করে দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “মানচিত্রে সেশেলসকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দ্বীপপুঞ্জ হিসেবে দেখালেও আমাদের কাছে এটি আরও অনেক বড়। আমরা সেশেলসকে এমন একটি দেশ হিসেবে দেখি, যার দিগন্ত উপকূল ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। ভারত মহাসাগর সেশেলসকে ভারতের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেনি। এটি আমাদের আরও কাছাকাছি এনে দিয়েছে।”