(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভারত সফর স্থগিত হয়ে গিয়েছে। চলতি বছরের কোন সময় তিনি ভারতে আসবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নেতানিয়াহুর ভারত সফরের আগেই ইজ়রায়েল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ফেব্রুয়ারির শেষেই ইজ়রায়েলে যাবেন তিনি।
গত বছরের শেষে, ডিসেম্বর মাসে ভারত সফরে আসার কথা ছিল ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর। কিন্তু ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ সেই সফর স্থগিত হয়ে যায়। ইজ়রায়েলের সংবাদমাধ্যম ‘আই২৪নিউজ়’ সূত্র উদ্ধৃত করে জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণেই ডিসেম্বরের ভারত সফর স্থগিত করে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। ওই সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে লেখা হয়, “ভারতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল নেতানিয়াহুর। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নেতানিয়াহু সম্ভবত আগামী বছর (২০২৬) ভারত সফরে যাবেন।”
নেতানিয়াহুর ভারতে আসার কথা ছিল ডিসেম্বরে। ঘটনাচক্র বলছে, তার আগে ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। তাতে মৃত্যু হয় ১৫ জনের। আহত হন অনেকে। ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তাঁর ডিসেম্বরের ভারত সফর স্থগিত হওয়ার নেপথ্যে দিল্লির বিস্ফোরণ কোনও প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি। অবশ্য ২০২৫ সালে তার আগেও দু’বার (এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর মাসে) নেতানিয়াহুর ভারত সফর বাতিল হয়েছিল।
মোদীর ইজ়রায়েল সফর নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি বিদেশ মন্ত্রক। তবে ভারতে ইজ়রায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজ়ার সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। যথাসময়ে দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হবে।” ইজ়রায়েলের সংবাদমাধ্যম ‘টাইম্স অফ ইজ়রায়েল’ জানিয়েছে, মোদীর ইজ়রায়েল সফরে দুই দেশের মধ্যে কেবল দ্বিপাক্ষিক বিষয়েই নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিষয়েও কথা হবে।
শুক্রবারই দিল্লিতে আরব দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই বৈঠকে প্যালেস্টাইনের বিদেশমন্ত্রী ভারসেন আঘাবেকিয়ান শাহিন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজ়ার পুনর্গঠনে ভারতকে সাহায্য করার আর্জি জানান। মোদীর ইজ়রায়েল সফরের আগে এই বৈঠকের আয়োজন করে ভারত কূটনৈতিক ভারসাম্যের বার্তাই দিতে চেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনাচক্র এ-ও বলছে যে, গাজ়ায় শান্তি এবং স্থিতাবস্থা ফেরানোর উদ্দেশ্যে গঠিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেয়নি ভারত। তবে আমেরিকার মিত্র রাষ্ট্র ইজ়রায়েল তাতে যোগ দিয়েছে। যদিও তাতে নয়াদিল্লি এবং জেরুসালেমের সুসম্পর্ক বিঘ্নিত হয়নি। এই ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মোদী ইজ়রায়েল সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।