হাসিনার ভারত সফর চূড়ান্ত

তিস্তা চুক্তি নিয়ে বাড়ছে তৎপরতা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের দিনক্ষণ অবশেষে চূড়ান্ত হল। ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্যবর্ধন শ্রিংলা সোমবার বাংলাদেশের বিদেশসচিব শহীদুল হকের সঙ্গে দেখা করে সফরের বিষয়ে নথি হস্তান্তর করেন।

Advertisement

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৭ ০৪:৪০
Share:

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের দিনক্ষণ অবশেষে চূড়ান্ত হল। ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্যবর্ধন শ্রিংলা সোমবার বাংলাদেশের বিদেশসচিব শহীদুল হকের সঙ্গে দেখা করে সফরের বিষয়ে নথি হস্তান্তর করেন। ডিসেমবর ও ফেব্রুয়ারিতে পর পর দু’বার সফর বাতিল হওয়ার পরে ঠিক হয়েছে, আগামী

Advertisement

মাসের ৭ তারিখে নয়াদিল্লি আসছেন শেখ হাসিনা।

প্রতিশ্রুত তিস্তা চুক্তি রূপায়িত করতে না-পারায় ঢাকার কাছে দিল্লির মুখ কিছুটা পুড়ে রয়েছে। নয়াদিল্লির দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে সম্প্রতি বেজিং-এর সঙ্গে ঢাকার কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি দেখে। কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, তিস্তা চুক্তি রূপায়ণের জন্য মোদী এ বার বিষয়টি নিয়ে উঠেপড়ে লাগবেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে এই চুক্তি।

Advertisement

ভোটে রাজনৈতিক শক্তি আরও বাড়িয়ে নেওয়ার পর, এ বার কেন্দ্র তিস্তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উপর চাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকেও মমতার ওপরে আস্থা রাখা হচ্ছে। কলকাতার সঙ্গে এখন ঢাকার সম্পর্ক যথেষ্ট উষ্ণ। আজই একটি অনুষ্ঠানে ঢাকার এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা আর্জি জানিয়েছেন— ‘‘বাংলাদেশের মানুষ চান, পশ্চিমবঙ্গের নেত্রী এ বার একটু মমতাময়ী হয়ে তিস্তার জলচুক্তিতে সায় দিন।’’

আরও পড়ুন: গুগলের সঙ্গে মিলে খুব সস্তায় ফোর জি স্মার্টফোন আনছে রিলায়্যান্স জিও

Advertisement

বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক আজ জানিয়েছে, ৮ এপ্রিল দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক হবে হাসিনার। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বিশেষ অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনেই থাকবেন হাসিনা। প্রণববাবু ও সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক ছাড়া একাত্তরের যুদ্ধে শহিদ ভারতীয় সেনাদের স্বজনদের সম্মান জানাবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশে বিপুল জয়ের পর বিদেশনীতির প্রশ্নে এ বার আরও আক্রমণাত্মক হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। কূটনীতিকদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়া তথা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গেও কিছুটা বাড়তি কর্তৃত্ব নিয়ে কাজ করতে পারবেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, পাকিস্তানের সঙ্গে জমাট বেঁধে যাওয়া সম্পর্কও ফ্রিজ থেকে বের করার কাজ শুরু হচ্ছে। এ মাসের শেষে লাহৌরের সিন্ধু জল কমিশনের বৈঠকটিকে আপাতত অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমলা পর্যায়ের হলেও এ’টিকেই আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন মোদী। মে মাসে কাজাখস্তানে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও এই দুই রাষ্ট্রনেতা মুখোমুখি হতে পারেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement