নিহত কবাডি খেলোয়াড় রানা বালাচৌরিয়া। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়েছিল। পঞ্জাবের মোহালিতে কবাডি খেলোয়াড় রানা বালাচৌরিয়া খুনে অভিযুক্ত সেই শুটারের মৃত্যু হল পুলিশের গুলিতে। শনিবার সকালে মোহালির ঘটনা। মৃতের নাম করণ পাঠক ওরফে করণ ডিফল্টার।
মোহালি পুলিশ সূত্রে খবর, করণ অমৃতসরের বাসিন্দা। দিন কয়েক আগে করণ এবং তাঁর আরও এক সঙ্গী তরণদীপ সিংহকে কবাডি খেলোয়াড়ের খুনের মামলায় পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া থেকে গ্রেফতার করেছিল পঞ্জাব পুলিশের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স। তাঁদের ট্রানজ়িট রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মোহালিতে।
মোহালির পুলিশ সুপার হরমনদীপ সিংহ হংস জানিয়েছেন, পুলিশের অপরাধদমন শাখার হেফাজতে ছিলেন অভিযুক্ত করণ। শুক্রবার মাঝরাতে বুকে যন্ত্রণা শুরু হয় করণের। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল পুলিশের গাড়িতে। ঘন কুয়াশার কারণে গাড়িটি একটি ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। সেই সুযোগে পালিয়ে যান করণ। তার পর করণের খোঁজে চণ্ডীগড়, রূপনগর এবং ফতেহগড় সাহিবে তল্লাশি শুরু করে। পলাতক শুটারকে ধরতে জেলার বেশ কয়েকটি জায়গায় নাকাতল্লাশি শুরু হয়। মোহালির খারারে যখন নাকাতল্লাশি চলছিল, সেই সময় করণকে দেখতে পান পুলিশকর্মীরা। তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু তা না করে পালানোর চেষ্টা করেন করণ। পুলিশকে লক্ষ্য করে ৬-৭ রাউন্ড গুলিও চালান বলে অভিযোগ। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। তাতেই গুরুতর আহত হন করণ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মোহালির পুলিশ সুপারকে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পেয়েছিলেন করণ। তখন তিনি দাবি করেন, ৬-৭ ঘণ্টা পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত। সেই সময়েই কোনও ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করেছিলেন।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মোহালিতে একটি কবাডি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেই খেলার মাঝে ঢুকে কবাডি খেলোয়াড় রানার মাথায় করণ এবং তরণদীপ গুলি করেন বলে অভিযোগ। তার পরই পালিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রানার মৃত্যু হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, খেলা তখন সবে শুরু হয়েছিল। হঠাৎই গুলি চলার আওয়াজ শোনা যায়। তার পরই দেখা যায় রানা মাটিতে পড়ে রয়েছেন। একটি গাড়ি করে হামলাকারীরা এসেছিলেন।