আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি। ছবি: সংগৃহীত।
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে আলোচনায় রাজি ইরান। মঙ্গলবার ইরানের নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রতিনিধি আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি এ কথা জানিয়েছেন। কিন্তু তার সঙ্গে হামলাকারী আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে একটি শর্তও দিয়েছেন তিনি।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইলাহি মঙ্গলবার বলেন, ‘‘ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত কিন্তু মর্যাদার সঙ্গে।’’ কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে তেহরান যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করবে না, ইলাহির এই বক্তব্যে তার ইঙ্গিত রয়েছে। প্রসঙ্গত, মার্কিন বিমনহানায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে অস্থায়ী ভাবে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে ইরান। তিন সদস্যের ওই কমিটির নেতা খামেনেই ঘনিষ্ঠ আলিরেজ়া আরাফি। তাঁরও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন ইলাহি।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের উপর ইজ়রায়েল ও আমেরিকার বিমান হামলা (যার পোশাকি নাম যথাক্রমে ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’) চালিয়েছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের। সেই সময়ই জখম হন তাঁর স্ত্রী খোজাস্তেহ বাঘেরজ়াদেহ। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। খামেনেইয়ের পাশাপাশি শনিবার যৌথবাহিনীর হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজ়িজ় নাসিরজাদা, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের (ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিল) প্রধান আলি শামখানি, সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ সৈয়দ আব্দুলরহিম মৌসাভি এবং ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রধান মহম্মদ পাকপুরের মতো শীর্ষস্থানীয় ইরানি আধিকারিকদের মৃত্যু হয়েছিল।
মঙ্গলবার সংঘাতের চতুর্থ দিনেও ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইজ়রায়েলি সেনা। তারই মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান, কিন্তু তা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে।’’ যদিও ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, ইরান আলোচনার জন্য আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। পরমাণু চুক্তি নিয়ে জানুয়ারি থেকে ওয়াশিংটন-তেহরান চার দফা আলোচনার পরেও কোনও সমাধানসূত্র না মেলায় সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। সোমবার তিনি জানান, আমেরিকা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। কারণ, আগামী চার সপ্তাহে যুদ্ধের কোনও ফলাফল না-ও মিলতে পারে।