সর্ষের তেল ঠিক কখন মাখতে হয়, জানেন? ছবি: সংগৃহীত।
চুল পড়ার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। বয়স, মানসিক চাপ, দূষণ, অস্বাস্থ্যকর এবং নিয়মহীন জীবনযাপন, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা পুষ্টির ঘাটতি— নানা কারণে চুল ঝরতে পারে। তাই দামি প্রসাধনী থেকে শুরু করে ঘরোয়া টোটকা, সব কিছুই পরীক্ষা করে দেখতে চান অনেকেই। তবে কেশচর্চা শিল্পী জাওয়েদ হবীবের একটি টোটকা কাজে আসতে পারে এ ক্ষেত্রে।
হবীবের মতে, বিশেষ করে চুল ঝরে পড়া রুখতেই তাঁর টোটকাটি প্রয়োগ করা যায়। তবে খুশকি কমানোর জন্যও এই কৌশল কার্যকরী বলে জানিয়েছেন তিনি। তা ছাড়া খুব সহজ এক টোটকা বলেই প্রায় সকলেই সেটি অনুসরণ করতে পারেন।
মাথা ধুতে হবে রোজ, কিন্তু নির্দিষ্ট পন্থায়। ছবি: সংগৃহীত
চুল পড়া রুখতে জাওয়েদের টোটকা কী?
তাঁর মূলমন্ত্র তেল। তা-ও আবার বাঙালির হেঁশেলের চিরাচরিত সর্ষের তেল। কিন্তু সেই তেল প্রয়োগের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। হবীবের কথায়, ‘‘খুশকিকে চুলের স্বাস্থ্যের জন্য বিষ বলা যেতে পারে। তাই রোজ মাথা ধুতে হবে। কিন্তু চুল ধোয়ার জন্য আমার পদ্ধতি মেনে ধুতে হবে, তা হলে কাজ হবে।’’ ধাপে ধাপে শিখে নিন কেশচর্চাশিল্পীর টোটকা—
১. প্রথমে মাথা ধুয়ে নিতে হবে জলে।
২. তেল শুষ্ক ত্বকে কাজ করে না, তাই হালকা ভিজে মাথার ত্বকে সর্ষের তেল মাখতে হবে।
৩. মাসাজ করবেন না। সিঁথি কেটে তেল মেখে বসে থাকুন।
৪. ৫-১০ মিনিট পর মৃদু শ্যাম্পু বা রিঠা দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।
৫. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই টোটকা কিন্তু প্রতি দিন প্রয়োগ করতে হবে, তবেই কাজ হবে।
জাওয়েদের দাবি, এর ফলে চুলে ভাঙন ধরার সমস্যা কমে যাবে। এমনিতে ৫০-এর কোঠায় পৌঁছোনোর আগে চুলে ভাঙন ধরার কথা নয়, কিন্তু নানা কারণে বয়সের সেই সীমা এখন এগিয়ে এসেছে। তাই নির্দিষ্ট নিয়মে রোজ চুল ধোয়ার পরামর্শ তাঁর।
সর্ষের তেল চুলের জন্য কেন ভাল? জাওয়েদের দাবি কি সঠিক?
এই তেলে রয়েছে ভিটামিন ই, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রয়োজনীয় কিছু খনিজ। তাই মাথার ত্বকে পুষ্টির জোগান দেওয়ার জন্য সর্ষের তেলের জুড়ি মেলা ভার। চুল ঝরে পড়া বন্ধ করতে পারে কি না, সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে। তবে এই তেল সকলের জন্য উপযুক্ত না-ও হতে পারে। তাই আগে অল্প একটু কনুইয়ে মেখে পরখ করে নিতে হবে।
চুল পড়া কমাতে আর কী জরুরি?
চুলের স্বাস্থ্য শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার উপর নির্ভর করে না। এর জন্য প্রয়োজন—
· পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
· আয়রন, জ়িঙ্ক এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার
· পর্যাপ্ত ও ভাল ঘুম
· মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
· নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা
· প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া