Kolkata Municpal Corporation

কেন ভেঙে দেওয়া হবে না কলকাতা পুর বোর্ড? ফিরহাদের ইস্তফার পরে পুরসভাকে নোটিস রাজ্যের, তিন দিনে জবাব তলব

নোটিসে বলা হয়েছে, পুরসভা আইনের ১১৭(২) (এ) ধারা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করে পুরসভার কাছে তিন দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১৬:২৭
Share:

ফিরহাদ হাকিম। — ফাইল চিত্র।

মেয়রের ইস্তফার পরে কেন ভেঙে দেওয়া হবে না কলকাতা পুরসভার বোর্ড? জানতে চেয়ে নোটিস জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। নোটিস জারির তিন দিনের মধ্যে পুরসভাকে লিখিত জবাব দিতে হবে। সেই মর্মে নোটিসের প্রতিলিপি কলকাতা পুরসভার কমিশনার, পুরসচিব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নোটিসে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, পুরসভা এখন কলকাতাবাসীকে পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সে কারণেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। যদিও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য জানান, পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার অধিকার রাজ্য সরকারের নেই। কলকাতা পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রশাসক বসিয়ে পুরসভার কাজ চালানো যেতে পারে।

Advertisement

কলকাতার মেয়র পদ থেকে শুক্রবার ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। যদিও তাঁর জায়গায় অন্য কাউকে মেয়র হিসাবে বসাননি তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই নিয়ে কোনও আবেদনও তাঁদের তরফে করা হয়নি। ঘটনাচক্রে, মেয়রের ইস্তফার পরে কলকাতা পুরসভাকে নোটিস পাঠায় রাজ্য সরকার। তাতে জানানো হয়, মেয়রের পদত্যাগের পরে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়ায় বাধা তৈরি হতে পারে। এর ফলে সংবিধান এবং ১৯৮০ সালের কলকাতা পুরসভা আইন অনুসারে, পুরসভার উপরে যে দায়িত্ব রয়েছে, তা পালনে সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নোটিসে এ-ও বলা হয়েছে, কলকাতা পুরসভা আইন, ১৯৮০-এর ১১৭(১) ধারায় রাজ্য সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোনও পুরসভা তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়, ধারাবাহিক ভাবে কর্তব্যে গাফিলতি করে অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তা হলে সরকার তাকে অযোগ্য বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বলে ঘোষণা করে পুরসভা ভেঙে দিতে পারে। তবে তা সর্বোচ্চ ছ’মাসের জন্য করা যেতে পারে। তার বেশি নয়।

রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে পুরসভাকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হয়। সে কারণেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

Advertisement

নোটিসে বলা হয়েছে, পুরসভা আইনের ১১৭(২)(এ) ধারা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করে পুরসভার কাছে তিন দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই ধারা অনুসারে একতরফা ভাবে পুরসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা নেই রাজ্য সরকারের। পুরসভাকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে।

প্রশ্ন উঠছে ১১৭ ধারায় পুরসভা ভেঙে দেওয়া হলে কী হবে? পুরসভার আইন আইনের ১১৮ ধারা অনুযায়ী মেয়র, কাউন্সিলর, মেয়র-ইন-কাউন্সিল— সকলের পদ খালি হয়ে যাবে এবং সরকার নিযুক্ত প্রশাসক বা ব্যক্তিরা দায়িত্ব নেবেন।

কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা আইনজীবী বিকাশ বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার পুরসভার কাছে বলতে পারে যে, তারা কাজ করছে না। তারা কী করতে চাইছে, জিজ্ঞেস করতে পারে। পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার অধিকার রাজ্য সরকারের নেই। মেয়র না-থাকার পরের পরিস্থিতিতে এটুকুই করতে পারে।’’ কলকাতা পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ে বক্তব্য, কলকাতা পুরসভায় এমন অচলাবস্থার নজির আগেও রয়েছে। সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে বা ষাটের দশকের শেষের দিকে কলকাতা পুরসভার মেয়রকে সরে যেতে হয়েছিল। সেই সময় প্রশাসক বসিয়ে শহরের পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘মেয়র না থাকলে অচলাবস্থা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এমন কোনও ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পুরসভা থেকে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম পরিষেবা পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুরসভা ভেঙে না দিয়ে আপাতত প্রশাসক দিয়ে পুর বোর্ড চালানো উচিত। আইনও সম্ভবত তা-ই বলে।’’

শুক্রবার কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফিরহাদ। ইস্তফা দেওয়ার কারণ জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, “দাপটের সঙ্গে কাজ করেছি। যাঁরা পুরসভায় আসতেন, তাঁদের সমস্যার সমাধান করার কাজ করতাম। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। চেয়ারের সম্মানহানি করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকলাম অথচ ঢাল নেই, তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার। তাই আমি ইস্তফা দিচ্ছি।”

প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতার পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্বভার কার্যত চলে গিয়েছিল পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে। তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর ‘স্বাধীন ভাবে’ কাজ করতে না-পারার অভিযোগ করছিলেন। এই আবহে কাজ করতে না-পারার কথা জানিয়ে পদত্যাগ করেন ফিরহাদ। তার পরেই পুরসভাকে নোটিস পাঠায় রাজ্য সরকার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement