India-US Trade Deal

তুলোচাষিরা পথে বসবেন, ফের সরব রাহুল

দু’দেশের বস্ত্র ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় ফায়দা পাবে বলেই মনে করছেন রাহুল। তাঁর মতে, এতে সমস্যায় পড়বেন এ দেশে বস্ত্রশিল্পের উপর নির্ভরশীল প্রায় পাঁচ কোটি পরিবার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৬
Share:

রাহুল গান্ধী। ফাইল চিত্র।

ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি, বিশেষ করে বস্ত্রশিল্পের উপর ওই চুক্তির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আজ ফের সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘‘ওই দেশের বস্ত্রশিল্প ও তুলোচাষিদের একবারে পথে বসিয়ে ছাড়বে।’’

ওই চুক্তির শর্ত হিসেবে ভারত থেকে আমদানি হওয়া বস্ত্রে ১৮ শতাংশ শুল্ক বসাবে আমেরিকা। রাহুলের দাবি, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যদি তারা আমেরিকা থেকে তুলো কেনে এবং সেই তুলো বা সুতো দিয়ে উৎপাদিত পণ্য ফের আমেরিকায় রফতানি করে, সংশ্লিষ্ট পণ্যে কোনও শুল্ক বসবে না। এর ফলে দু’দেশের বস্ত্র ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় ফায়দা পাবে বলেই মনে করছেন রাহুল। তাঁর মতে, এতে সমস্যায় পড়বেন এ দেশে বস্ত্রশিল্পের উপর নির্ভরশীল প্রায় পাঁচ কোটি পরিবার।

আজ সমাজমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিয়ো বার্তায় রাহুল দাবি করেছেন, তিনি সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে বিষয়টি লোকসভায় উত্থাপন করলে মোদী সরকারের এক মন্ত্রী দাবি করেন, যদি ভারত আমেরিকা থেকে তুলো কেনে, তা হলে ভারতের জন্যও ওই শুল্ক ছাড় প্রযোজ্য হবে। রাহুলের প্রশ্ন, ‘‘যদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি সত্যি হয়, তা হলে ওই সত্য দেশের কাছে কেন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল? এটা কি সত্যিই শর্তে রয়েছে না কি এটা কোনও ফাঁদ?’’ রাহুলের মতে, ভারতীয় বস্ত্রশিল্প ও তুলো চাষিদের এখন শাঁখের করাতের দশা। যদি আমেরিকা থেকে তুলো কেনা হয়, তুলোচাষিরা পথে বসবেন। আর যদি তা না হয়, আমেরিকায় রফতানি হওয়া বস্ত্রে ১৮ শতাংশ শুল্ক চাপবে। যাতে সমস্যা পড়বেনবস্ত্র ব্যবসায়ীরা।

রাহুলের মতে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারত থেকে তুলো না কেনার ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে, যা ভারতের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। তুলো চাষ ও বস্ত্র উৎপাদনকে দেশের মানুষের রোজগারের মেরুদণ্ড অ্যাখ্যা দিয়ে রাহুল বলেন, ‘‘সরকারের এ ভাবে আত্মসমপর্ণ করা উচিত নয়। কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গয়ালের অন্তত সত্যটা বলা উচিত।’’

রাহুল অর্থনীতির কিছুই বোঝেন না বলে পাল্টা সরব হয়েছেন পীষূষ। তিনি বলেন, ‘‘দেশের সামগ্রিক রফতানির প্রশ্নে বস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। যা মোট রফতানির প্রায় ৩.৬০ লক্ষ কোটি টাকা। যা (চুক্তির ফলে) আগামী দিনে বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হবে। আমেরিকা বছরে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকার বস্ত্রজাতীয় পণ্য কেনে। তা ছাড়া ভারতীয় পণ্যের উপরে শুল্ক কমিয়ে ৫০ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে।’’ গয়ালের দাবি, আমেরিকায় রফতানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের উপরে শুল্ক হার শূন্য হবে। কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের উপরে ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। যা প্রতিযোগী চিন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার থেকে কম।’’

গয়াল জানান, ভারতও যদি আমেরিকা থেকে তুলো বা সুতো কিনে উৎপাদিত পণ্য আমেরিকান বাজারে বিক্রি করে, বাংলাদেশের মতো ওই ছাড় পাবে। আর আমেরিকা যে পরিমাণ তুলো রফতানি করে, তার চেয়ে বেশি তুলো ভারতের এক-একটি প্রান্তে উৎপাদিত হয়। ফলে আমেরিকার তুলো এলে ভারতীয় তুলোচাষিরা মার খাবেন বলে রাহুলের যুক্তি ঠিক নয় বলে তাঁর দাবি।

আজ পীযূষ বলেন, ‘‘রাহুল অপরিণতমনস্ক। তিনি অর্থনীতির কিছুই বোঝেন না। তিনি যা বলছেন তা বাস্তব থেকে শত হস্ত দূরে। মোদী সরকারকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা ছাড়া এ আর কিছুই নয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন