রাহুল গান্ধী। — ফাইল চিত্র।
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভগীরথপুরায় পুরসভার তরফে সরবরাহ করা জলে যে সমস্যা রয়েছে, তা ধরা পড়েছিল মাস তিনেক আগেই। স্থানীয় মেয়রকে সে কথা জানানোও হয়। কিন্তু তার পরেও নেওয়া হয়নি কোনও ব্যবস্থা। ইতিমধ্যেই সেই দূষিত জল খেয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৩ জনের। এ নিয়ে প্রশ্ন করায় বিজেপির মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের ‘ঘণ্টা’ মন্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্কের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠে গিয়েছে পর পর আট বার স্বচ্ছতম শহরের তকমা পাওয়া ইন্দোরের প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়েও।
এই ঘটনার আবহে বিজেপি শাসিত রাজ্যের প্রশাসনকে তুলোধনা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘জল নয়, বিষ সরবরাহ করা হয়েছিল! আর প্রশাসন কুম্ভকর্ণের মতো গভীর ঘুমে মগ্ন ছিল!’ তিনি আরও লেখেন, ‘কোথাও কাশির সিরাপে মৃত্যু, কোথাও সরকারি হাসপাতালে ইঁদুরের হামলায় শিশুদের মৃত্যু, আর এ বার পয়ঃপ্রণালী থেকে নিষ্কাশিত বর্জ্য পানীয় জলে মিশে মৃত্যু। আর যখনই গরিব-দুঃস্থদের মৃত্যু হয়, মোদীজি প্রতি বারের মতোনীরব থাকেন।’
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জল জীবন মিশন নিয়ে এত ঢাক পেটান, অথচ ইন্দোরে দূষিত জল খেয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তিনি একটি কথাও বলেননি।’
শুধু বিরোধীরা নয়, রাজ্যের বিজেপি সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপি নেত্রী তথা মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উমা ভারতীও। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব দূষিত জল খেয়ে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে উমার প্রশ্ন, ‘জীবনের দাম মাত্র ২ লক্ষ টাকা?’ এক্স হ্যান্ডলে উমা বিজেপির অফিসিয়াল হ্যান্ডল এবং মোহন যাদবকে ‘ট্যাগ’ করে লেখেন, ‘২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে দূষিত জল পান করার কারণে ইন্দোরে সাধারণ মানুষের মৃত্যু আমাদের রাজ্য, আমাদের সরকার এবং সমগ্র প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে লজ্জিত ও অপমানিত করেছে।’
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ অক্টোবর। দীনেশভারতী বর্মা নামে এক ব্যক্তি ভাগীরথপুরার একটি স্থানীয় মন্দিরের কাছে নলকূপের জলে কিছু সমস্যা লক্ষ করেন। মেয়রকে এই নিয়ে সতর্কও করেন বর্মা। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিবানী ঠাকলে নামে আর ব্যক্তি এক জলে অ্যাসিড রয়েছে বলে দাবি করেন। ১৮ ডিসেম্বর এলাকার বাসিন্দারা জলে দুর্গন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ জানান। ২৮ ডিসেম্বর গোটা বিষয়টি ভয়াবহ আকার নেয়। ভাগীরথপুরার বাসিন্দারা জানান, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ৯০ শতাংশ মানুষ পেট খারাপ, নাগাড়ে বমি এবং ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যায় ভুগছেন। অভিযোগ, এর পরেও হুঁশ ফেরেনি কর্তৃপক্ষের। ২৯ ডিসেম্বর প্রথম মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। তার পরে এক এক করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩। তাদের মধ্যে রয়েছে ছ’মাসের এক শিশুও। ইন্দোরের মেয়র পুষ্যমিত্র ভার্গব অবশ্য সংবাদসংস্থাকে বলেছেন, “১০ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।” দু’শোরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভগীরথপুরায় ১৩ জনের মৃত্যুর জন্য ‘বিষাক্ত জল’ই দায়ী বলে গবেষণাগারের রিপোর্টেও দাবি করা হয়েছে। তবে এর চেয়ে বেশি কিছু জানা যায়নি। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তথা চিকিৎসক মাধব প্রসাদ জানিয়েছেন, শহরের একটি মেডিক্যাল কলেজের গবেষণাগারে পানীয় জলের নমুনা পাঠানো হয়েছিল। তারাই এইরিপোর্ট জানিয়েছে।
এই ঘটনার পরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে এবং মধ্যপ্রদেশ সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের ইন্দোর বেঞ্চও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে