বিক্ষুব্ধরা বাদ পড়ে যাওয়ায় আস্থা ভোটে জয়ের পথে এগিয়ে রইলেন হরীশ রাওয়তই। তবু এখনও হাল ছাড়ছে না বিজেপি।
আজ সকালে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, কংগ্রেসের ন’জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক আগামিকালের আস্থা ভোটে সামিল হতে পারবেন না। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তার পরেই সুপ্রিম কোর্ট যান বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস বিধায়করা। কিন্তু দিনের শেষে তাঁরা কোনও সুরাহা পেলেন না। শীর্ষ আদালত এই মামলার শুনানি করবে আগামী বৃহস্পতিবার। যারফলে ৭০ জনের উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য হরীশ রাওয়তকে পেতে হবে ৩১ জনের সমর্থন। আপাতদৃষ্টিতে কংগ্রেস ও তার সমর্থক মিলে যে সংখ্যাটি অনায়াসেই পেয়ে যেতে পারেন রাওয়ত।
কিন্তু বিজেপি এখনও হাল ছাড়ছে না। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ইতিমধ্যেই দলের নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে উত্তরাখণ্ডে পাঠিয়েছেন। বিজেপি আশা করছে, কংগ্রেসের সমর্থকদের কয়েকজনের সমর্থন পাবে তারা। মায়াবতীর দলের বিধায়ক ও আরও কয়েকজনের সঙ্গে এখনও আলোচনা চলছে। এরমধ্যে যদি কয়েকজনকে ভোটের সময় অনুপস্থিত রাখা যায়, তাহলেই পাশা পাল্টে যেতে পারে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ভগৎ সিংহ কোশিয়ারি বলেন, ‘‘বিধায়কদের স্থির করতে হবে, তাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে থাকতে চান না উন্নয়নের সঙ্গে। দ্বিতীয় স্টিং অপারেশনে দেখা যাচ্ছে, হরীশ রাওয়ত নিজের দলের বিধায়কদের সঙ্গে রাখতেও টাকার লেনদেন করছেন।’’
দেখুন গ্যালারি- মোদীর মার্কশিট ও সার্টিফিকেট
যদিও পরিস্থিতি যে অনুকূলে নেই, সেটি আজ প্রায় কবুল করে ফেলেছেন বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের পান্ডা বিজয় বহুগুণা। তিনি দাবি করেন, ‘‘মাত্র কয়েকটি ভোট হার-জিত স্থির করবে। রাজ্যপালের উচিত সভা ভঙ্গ করে দেওয়া।’’ হরীশ রাওয়ত কালই ইঙ্গিত দিয়েছেন, আস্থা ভোটের পর তিনি প্রচারে নামবেন। অর্থাৎ, নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে তাঁরও। সিবিআই স্টিং অপারেশন মামলায় আজই তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিল। কিন্তু রাওয়ত আরও কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন।
এরইমধ্যে আজ লোকসভায় উত্তরাখণ্ডের বাজেট পাশ হয়। সেখানে অরুণ জেটলি বলেন, আজ আস্থা ভোটের দাবি জানাচ্ছে কংগ্রেস। অথচ স্পিকারই প্রথমে আস্থা ভোট করতে দেননি। সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে সংখ্যালঘু করে তিনি বিধানসভার চরিত্র বদলে দিতে চেয়েছেন। সংবিধান ভেঙ্গে পড়েছে বলেই কেন্দ্র সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে। কিন্তু কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়্গে এই বাজেট পাশের বিরোধিতা করে বলেন, ‘‘আগামিকালই যে রাজ্যে আস্থা ভোট হচ্ছে, সেখানের নির্বাচিত সরকারের হাতেই বাজেট পেশের অধিকার তুলে দেওয়া উচিত। ফলে আগামিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করলে কী এসে যায়?’’ কিন্তু সরকার সেটি মানতে রাজি না হওয়ায় প্রতিবাদে সভাকক্ষ ত্যাগ করে কংগ্রেস।