Journalist Harassment In Beldanga

বেলডাঙায় আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম! সোমা মাইতি-সহ ১২ জন সংবাদকর্মী আহত, নিন্দায় রাজ্যপাল ও মুখ‍্যমন্ত্রী, পাশে থাকার বার্তা দিলেন অভিষেক

শুধু সোমা বা তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্র সাংবাদিকই নন, এই ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অন্তত ১২ জন কর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোমার মস্তিষ্কের স্ক্যান ও হাতের এক্সরে করা হয়েছে। কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তাঁর একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট আসা বাকি আছে এখনও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:৩২
Share:

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত সাংবাদিক সোমা মাইতি। — নিজস্ব চিত্র।

পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। সেই খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। উন্মত্ত জনতার হাতে লাঞ্ছিত হন একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক সোমা মাইতি এবং চিত্র সাংবাদিক। অভিযোগ, সোমাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি কিল, চড়, লাথি ও ঘুষি মারা হয়। ভিড়ের মধ্যে তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়োলেও রেহাই মেলেনি। তাঁকে ধাওয়া করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

Advertisement

শুধু সোমা বা তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্র সাংবাদিকই নন, এই ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অন্তত ১২ জন কর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোমার মস্তিষ্কের স্ক্যান ও হাতের এক্সরে করা হয়েছে। কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তাঁর একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট আসা বাকি আছে এখনও। হাসপাতালে বসে সোমা বলেন, “আমরা শুধু কাজ করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু যে ভাবে মারা হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এত বছর সাংবাদিকতা করছি, কখনও এ রকম ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়িনি। দু’জন আমাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নেন। এক জন চুল ধরে টানছিলেন, কেউ পা ধরে, কেউ জামা ধরে টানছিলেন।”

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। রাজ‍্যপাল এই ঘটনাকে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। মমতাও ঘটনার নিন্দা করেন। পাশাপাশি, অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।

Advertisement

ঘটনার কথা জানতে পেরেই সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকের অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি ফোন করে খোঁজখবর নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন হাসপাতালে গিয়ে সোমা এবং চিত্র সাংবাদিকের শারীরিক পরিস্থিতির খবর নিতে। একই সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ পুলিশকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দলনেতার নির্দেশ মতো বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় আক্রান্ত সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। অভিষেকের বার্তা পৌঁছে দেন তৃণমূল নেতা।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি, সাংবাদিকের উপর এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছে কলকাতা প্রেস ক্লাব। ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়, সাংবাদিকের উপর এই ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ এবং এটা অপরাধ। মুর্শিদাবাদের পুলিশ প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি জানানো হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement