আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু নিয়ে হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে শোরগোল চলছে। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে খুন হয়েছেন তিনি। ওই নিয়ে অশান্ত মৃতের জন্মভূমি বেলডাঙা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়খণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকের হত্যায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করার আবেদন জানালেন তিনি। তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে তাঁর রাজ্যের পুলিশ।
শুক্রবার সকালে বেলডাঙার বাসিন্দা জনৈক আলাউদ্দিন শেখের দেহ ঝাড়খণ্ডে উদ্ধার হওয়ার খবর মেলে। সেখানে কাজে গিয়েছিলেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। পরিবারের দাবি, ‘নৃশংস ভাবে’ আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। জানা যায়, ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন। ভাড়াঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তবে আলাউদ্দিনের প্রতিবেশী তথা গ্রামবাসীদের অভিযোগ, যুবককে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের শ্রমিক হওয়ার কারণেই যুবকের এই পরিণতি।
এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই অশান্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিক্ষোভ হয়েছে মুর্শিদাবাদের ওই জনপদে। আটকে ছিল ট্রেন, বাস, লরি। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে শান্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তিনি জানান, মৃতের পরিবারের পাশে রয়েছেন তাঁরা। যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত। এই ঘটনার বিচার হবে।
তার পরেই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন রাজ্যের শাসকদলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা অভিষেক। বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হেমন্তকে অনুরোধ করেছেন তিনি। জানা যাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী অভিষেককে আশ্বাস দিয়েছেন, এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে তাঁর পুলিশ। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের ধরা হবে।
অন্য দিকে, মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনিও জানান, ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাবেন।