Drinking Water in MP

মধ্যপ্রদেশে ‘পানীয়’ জলের তিন ভাগের এক ভাগই পানের অযোগ্য! ইনদওর বিতর্কের মধ্যেই প্রকাশ্যে কেন্দ্রের রিপোর্ট

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পানীয় জলের গুণমানের পরীক্ষায় মধ্যপ্রদেশের মাত্র ৬৩.৩ শতাংশ জলের নমুনা উত্তীর্ণ হয়েছে, যা জাতীয় গড় ৭৬ শতাংশের থেকে অনেক কম। পাশাপাশি, জানা গিয়েছে, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার মোট পানীয় জলের নমুনার ৩৬.৭ শতাংশ পানের অযোগ্য।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪৭
Share:

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

‘বিষাক্ত’ জল পান করে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। সেই আবহেই জানা গেল, মধ্যপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় প্রতি তিন গ্লাস জলের মধ্যে একটি পানের অযোগ্য! এমনটাই দাবি করা হয়েছে কেন্দ্রের এক রিপোর্টে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের নতুন রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় মোট পানীয় জলের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি জল মানুষের ব্যবহারের অনুপযুক্ত। অথচ রোজ ওই জলই পান করা এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন কয়েক লক্ষ মানুষ!

Advertisement

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পানীয় জলের গুণমানের পরীক্ষায় মধ্যপ্রদেশের মাত্র ৬৩.৩ শতাংশ জলের নমুনা উত্তীর্ণ হয়েছে, যা জাতীয় গড় ৭৬ শতাংশের থেকে অনেক কম। পাশাপাশি, জানা গিয়েছে, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার মোট পানীয় জলের নমুনার ৩৬.৭ শতাংশ পানের অযোগ্য। প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া এবং রাসায়নিক দূষণ রয়েছে ওই জলে। এই সমীক্ষার জন্য ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মধ্যপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ঘুরে ঘুরে ১৫,০০০-এরও বেশি পরিবারের কাছ থেকে পানীয় জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই নমুনা পরীক্ষার পরেই এই রিপোর্ট মিলেছে।

সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিত্রটা আরও খারাপ। সেখানে মাত্র ১২ শতাংশ জলের নমুনা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সুরক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, যা জাতীয় গড় ৮৩.১ শতাংশের তুলনায় উদ্বেগজনক হারে কম। এর অর্থ হল, মধ্যপ্রদেশের প্রায় ৮৮ শতাংশ হাসপাতালে রোগীদের পানের অযোগ্য জল সরবরাহ করা হচ্ছে। একই দশা স্কুলগুলিরও। শিক্ষাঙ্গনে শিশু-কিশোরদের পানীয় জলের ২৬.৭ শতাংশ নমুনাই মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অনুপ্পুর এবং দিন্দোরির মতো আদিবাসী অধ্যুষিত জেলাগুলিতে একটিও নিরাপদ পানীয় জলের নমুনা পাওয়া যায়নি। বালাঘাট, বেতুল এবং ছিন্দওয়ারায় ৫০ শতাংশেরও বেশি জলের নমুনাই ব্যবহারের অযোগ্য।

Advertisement

মধ্যপ্রদেশে মাত্র ৩১.৫ শতাংশ পরিবারে পানীয় জলের পৃথক কল রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি চারটি বাড়ির মধ্যে একটিতে পর্যাপ্ত জলের জোগান নেই। আবার, কলের জল মানেই যে সেই জল নিরাপদ হবে, এমনটাও নয়। ইনদওরে ১০০ শতাংশ পরিবারে পানীয় জলের সংযোগ থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৩৩ শতাংশ পরিবার নিরাপদ পানীয় জল পায় বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিস্থিতিকে ‘সিস্টেম-সৃষ্ট বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছে। পানীয় জলের গুণমানের কোনও উন্নতি না হলে চলতি অর্থবর্ষে এ সংক্রান্ত বরাদ্দও হ্রাস করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইনদওরের ভাগীরথপুরায় বিষাক্ত জল পান করে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। সরকারি হিসাব বলছে তেমনটাই। যদিও স্থানীয়দের দাবি, মৃতের সংখ্যা ১৮। বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৪২৯ জন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। সেই আবহেই এ বার নয়া পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আনল কেন্দ্র।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement