Abhishek Banerjee House Raid

আপ্তসহায়কের খোঁজে রাত ৩টেয় অভিষেকের বাড়িতে পুলিশ, তালা ভেঙে ভোরে চলল তল্লাশি, গেলেন মমতাও! বাজেয়াপ্ত হয়নি কিছুই

পুলিশি তল্লাশির খবর পেয়ে সকালে অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন মমতাও। তল্লাশি শেষ হলে তিনি ফিরে যান। অভিষেক বাড়ি থেকে বেরিয়ে জানান, তালা ভেঙে ঢুকে তাঁর পুরো বাড়ি ‘সার্চ’ করা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ২৩:১০
Share:

(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে ছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি থানার পুলিশ। বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে শনিবার ভোর ৩টে নাগাদ তারা তৃণমূলের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়ির সামনে পৌঁছে গিয়েছিল। দীর্ঘ ক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বাড়ির বাইরে। পরে তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। তল্লাশি চলে প্রায় ৯০ মিনিট। তবে অভিষেকের বাড়ি থেকে কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।

Advertisement

পুলিশি তল্লাশির খবর পেয়ে সকালে অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন মমতাও। তল্লাশি শেষ হলে তিনি ফিরে যান। অভিষেক বাড়ি থেকে বেরিয়ে জানান, তালা ভেঙে ঢুকে তাঁর পুরো বাড়ি ‘সার্চ’ করা হয়েছে। বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে। আপ্তসহায়ক সংক্রান্ত অভিযোগও অস্বীকার করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। জানান, তিনি কাউকে বাড়িতে লুকিয়ে রাখেননি। তাই তদন্তকারী সংস্থাও কিছু পায়নি। যে কোনও তল্লাশি অভিযানের পর পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী একটি বাজেয়াপ্তের তালিকা প্রস্তুত করে। এ ক্ষেত্রে সেই তালিকায় বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর জায়গায় ‘নিল’ লেখা রয়েছে। অর্থাৎ, কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাগরিকা ঘোষ সমাজমাধ্যমে সে নথি প্রকাশ করেছেন।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, জমি জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের জেরে অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে পটুয়াপাড়ায় গিয়েছিল পুলিশ। কলকাতায় অভিষেকের বাসভবনের পাশাপাশি, হুগলিতে সুমিতের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। অভিযান চলেছে সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও। কিন্তু সেখানেও পাওয়া যায়নি ওই যুবককে। সুমিতের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন শেষ বার তারা দেখেছিল অভিষেকের বাড়িতেই। তাই পুলিশের ধারণা ছিল, সেখানে সুমিত লুকিয়ে রয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার রাত ৩টে নাগাদ কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় পৌঁছে যায় পুলিশের একটি দল। হাঁকডাকে বাড়়ির ভিতর থেকে কারও সাড়া না-পেয়ে সাড়ে ৫টা নাগাদ বাড়ির বাইরের দরজার তালা ভাঙা হয়। তবে তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি। শালবনির পাশাপাশি কালীঘাট থানার পুলিশও সেখানে ছিল। বাইরে থেকে বাড়ি ঘিরে রেখেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু সুমিতকে পাওয়া যায়নি। সকালে শোরগোলের পর ৮টা নাগাদ অভিষেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় শালবনি থানার পুলিশের দল।

Advertisement

কী বললেন পুলিশ সুপার

শালবনি থানা যে জেলায় পড়ে, সেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা শনিবার বলেন, ‘‘সুজয় হাজরাকে আমরা প্রথমে গ্রেফতার করি। ওঁর কাছে বেশ কিছু টাকার হদিস পাওয়া যায়। সেই টাকা দু’তিন হাত ঘুরেছে। সেই সূত্রে আমরা সুমিতের নাম পাই। গত দু’তিন দিন ধরে আমরা সুমিতকে ট্র্যাক করছিলাম। গত কাল কালীঘাটের ওই বাড়িতে সুমিতের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন পাওয়া যায়। তাই আমরা ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছি। এখনও তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে বিভিন্ন জায়গায়।’’

উপলক্ষ সুমিত, লক্ষ্য কে?

তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, আপাতত পুলিশ সুমিতকে নিশানা করলেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তদন্ত সংস্থাগুলির মূল নিশানা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে ঘটনাপ্রবাহও তার ইঙ্গিতবাহী বলে তৃণমূলের ওই অংশের দাবি। রবিবার (১৪ জুন) সই-কাণ্ডে অভিষেককে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে অভিষেককে তলব করেছে ইডি। মঙ্গলবার আবার তাঁকে তলব করে নোটিস পাঠানো হয়েছে— বিধানসভা ভোটের প্রচারে উস্কানিমূলক বক্তব্যের (ডিজে বাজানো মন্তব্য) অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায়।

প্রসঙ্গত, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করে বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে যে স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সইতে ‘অসঙ্গতি’ পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। সেই তদন্তভার রাজ্য সরকার তুলে দিয়েছে সিআইডি-র হাতে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ওই চিঠিতে অভিষেকের স্বাক্ষর ছিল। গত ৬ জুন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি। তাঁকে একটি নোটিস ধরিয়ে দিয়ে আসেন গোয়েন্দারা। তার পর থেকেই ধারাবাহিক ভাবে সিআইডির নিশানা হয়েছেন তৃণমূলের লোকসভা নেতা। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় পেয়েছেন কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর জিজ্ঞাসাবাদের তলবও। এ বার তাঁর বাড়িতে হানা দিল পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ।

অভিষেক, সিআইডি এবং ইডি

বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে তাঁকে একাধিক বার ডাকা হলেও তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন। সিআইডির নোটিস নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে জানায়, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। বলা হয়, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। তবে সিআইডি এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিচারপতি চন্দ।

আদালতের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে যান অভিষেক। স‌ই-কাণ্ডে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। ১৪ জুন, রবিবার তাঁকে ফের হাজির হতে বলেছেন তদন্তকারীরা। এর পরে শুক্রবার কালীঘাটে অভিষেকের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে যায় সিআইডি। দু’ঘণ্টা পর ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ বাড়ি ফিরতেই তাঁর হাতে হাজিরার নোটিস ধরায় সিআইডি। উস্কানিমূলক বক্তব্য (ডিজে বাজানো মন্তব্য) সংক্রান্ত মামলায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভবানী ভবনে তলব করা হয়।

বৃহস্পতিবার তাঁর এবং সিআইডি আধিকারিকদের মধ্যে কী কথা হয়েছে, তা কী ভাবে সংবাদমাধ্যম জানতে পারল, তা নিয়ে শুক্রবার প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এ-ও জানান, অহেতুক ভুল খবর নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি না-করতে। একই সঙ্গে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন অভিষেক। অভিযোগের ভিত্তিতে তলব করা হয়েছে সে প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘‘সরকার পাল্টেছে এখন আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা হচ্ছে। অমিত শাহের বিরুদ্ধে কেন মামলা হবে না? ধমকে চমকে, সিবিআই, সিআইডি দিয়ে তৃণমূলকে সরিয়ে দেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করুন। বুলডোজ়ার না নামিয়ে উন্নয়নের কাজ করুক বর্তমান সরকার।’’ সূত্রের খবর, ‘ডিজে মন্তব্য’ নিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে সল্টলেকে সাইবার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই শুক্রবার কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি। চলতি সপ্তাহে অভিষেকের বিরুদ্ধে পুরনো এক ঘটনার প্রেক্ষিতে আবার থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। ডায়মন্ড হারবার থানার ওসির কাছে তাঁর আবেদন, এই অভিযোগপত্রের প্রেক্ষিতে এফআইআর দায়ের করে নতুন ভাবে বিস্তারিত তদন্ত হোক। উল্লেখ্য, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিষেকের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থেকে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বরে তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। সেই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। অভিজিৎ জানান, ঘটনার পরপরই তিনি থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেখানে মেডিক্যাল রিপোর্ট, ছবি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছিল বলে জানান অভিজিৎ। তবে সেই অভিযোগের পরেও তদন্তে কোনও অগ্রগতি হয়নি। সেই কারণে ২০২৩ সালে আবার কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনা সংক্রান্ত অগ্রগতি জানতে চান অভিজিৎ।

কে এই সুমিত রায়

তৃণমূল সূত্রের খবর, অভিষেকের সঙ্গে সুমিতের যোগাযোগ ছোটবেলা থেকেই। স্কুলের বন্ধু দু’জনে। সেই বাল্যবেলার বন্ধুই পরবর্তীকালে হয়ে ওঠেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন তিনিই। যদিও শনিবার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, সুমিত দলের কেউ নন।

দক্ষিণ কলকাতার নবনালন্দা স্কুলে পড়তেন অভিষেক। দক্ষিণ কলকাতার ভূমিপুত্র সুমিতও অভিষেকের সহপাঠী ছিলেন। অভিষেক এখানে পড়াশোনার পরে দিল্লিতে চলে যান। তবে সুমিতের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থেকে গিয়েছিল। রাজ্য সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেকের আবির্ভাব হয় তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে। ২০১১ সালের ২১ জুলাই রাজনীতিতে আগমন হয় তাঁর। তৈরি হয় যুবা। তার মাথায় বসানো হয় অভিষেককে। সেই থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ধীরে ধীরে উত্থান শুরু হয় অভিষেকের। হয়ে ওঠেন ‘যুবনেতা’ অভিষেক। এই উত্থানের সময়ে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বেশ কয়েকটি স্তর ছিল। সেই স্তরে অভিষেকের থেকে একটু দূরে চলে গিয়েছিলেন সুমিত। বৃত্তের মধ্যেই ছিলেন, তবে একটু দূরে।

ওই সময়ে অভিষেকের সবচেয়ে কাছাকাছির বৃত্তে থাকতেন অন্যেরা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম নাম বিনয় মিশ্র। এর পরের স্তরে যাঁরা থাকতেন, তাঁরা হলেন— প্রতীক দেওয়ান, রোহিত অগ্রবাল, করণ শর্মা। তার পরের যে স্তর ছিল, সেখানে ছিলেন সুমিত। পরবর্তী সময়ে কয়লাপাচার মামলায় বিনয়ের নাম জড়িয়ে যায়। তিনি ধীরে ধীরে ছিটকে যেতে থাকেন অভিষেকের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত থেকে। এর পরে নানা কারণে প্রতীক, রোহিত, করণেরাও অভিষেকের কাছাকাছি বলয় থেকে দূরে সরতে থাকেন। এর ফলে যে ‘শূন্যস্থান’ তৈরি হয়, সেই সময়ে অভিষেকের কাছাকাছি চলে আসেন সুমিত।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে সুমিত ক্রমশ ‘ওজনদার’ হয়ে উঠতে থাকেন তৃণমূলের অন্দরে। যা আরও গতি পায় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে। একটি পর্যায়ে সুমিতই হয়ে ওঠেন সংগঠন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে অভিষেকের চোখ এবং কান। অভিষেকের সংসদীয় এলাকায় ডায়মন্ড হারবারের কাজকর্ম দেখা, জেলা সংগঠনগুলির সঙ্গে ক্যামাক স্ট্রিটের সমন্বয়, আইপ্যাকের রিপোর্টের ভিত্তিতে সাংগঠনিক রদবদলের ক্ষেত্রে নেতাদের কাজকর্মের জরিপ করা— এই সবই করতেন সুমিতই। তৃণমূলের সংগঠন এবং অভিষেকের মাঝখানে সবসময় দণ্ডায়মান থাকতেন তিনি। কারণ, অভিষেকই তাঁকে সেই জায়গাটা দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, এ বারেও বিধানসভা নির্বাচনে একাধিক কেন্দ্রের প্রার্থীচয়নে সুমিতের ভূমিকা ছিল। অভিষেক-ঘনিষ্ঠ একাধিক যুব নেতা অভিষেককে ‘বস’ এবং সুমিতকে ‘ক্যাপ্টেন’ বলে অভিহিত করতেন। হাওড়া সদরের তৃণমূল যুব সভাপতি ছিলেন কৈলাস মিশ্র। তিনি এ বারের নির্বাচনে বালি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি প্রায়ই হোয়াট্‌সঅ্যাপ স্টেটাসে অভিষেককে ‘বস’ বলে অভিহিত করতেন। সঙ্গে সুমিতের ছবি দিয়ে লিখতেন ‘ক্যাপ্টেন’। অভিষেকের একদা ঘনিষ্ঠ এবং বর্তমানে ‘বিদ্রোহী’ হয়ে তৃণমূল থেকে নিলম্বিত হওয়া প্রাক্তন মুখপাত্র ঋজু দত্ত বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ করা যেত না। তাঁর কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম ছিলেন সুমিতই।” পরে তিনি এক্স পোস্টে লিখেছেন, “সুমিত রায় কে, সেটা তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়কেরা খুব ভাল করে জানেন।” অন্য দিকে, কুণালের দাবি, এ বারের বিধানসভা ভোটে তাঁর মনোনয়ন আটকাতে সক্রিয় ছিলেন সুমিত।

হুগলির শ্রীরামপুরের বিবেকানন্দ সরণিতে সুমিতের শ্বশুরবাড়ি। শনিবার সেখানেও হানা দেয় পুলিশ। তবে অভিষেকের আপ্তসহায়ককে সেখানেও পাওয়া যায়নি। ভোটের সময় বেশ কয়েক বার শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন সুমিত। সেই সূত্র ধরে শ্রীরামপুরে সুমিতের শ্বশুরবাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। সুমিতের শাশুড়ি জানান, গত দু’-এক দিনের মধ্যে তিনি শ্বশুরবাড়ি আসেননি। জামাই এখন কোথায়, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে দৃশ্যত অসন্তুষ্ট এবং ক্ষুব্ধ হয়ে প্রৌঢ়া বলেন, ‘‘জানি না! ও কোথায় আছে, আপনারা খুঁজুন। খুঁজুন, খুঁজুন। দেশের পুলিশ-প্রশাসন আছে, তারা খুঁজে আনুক।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, শালবনিতে জমি জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতেই সুমিতকে খুঁজছে তারা। কয়েক দিন আগে মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা এ বারের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরাকে জমি দুর্নীতি মামলায় পাকড়াও করেছে পুলিশ। এখনও তিনি পুলিশের হেফাজতে। তাঁকে জেরা করেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement