Rishi Sunak

থমকে দিল্লি, এআই কটাক্ষ ঋষি সুনকের

সোমবার থেকে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠান থাকায় সম্মেলনে ঢোকার জন্য অতিথিদের দু’-তিন ঘণ্টা রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৩
Share:

ঋষি সুনক। — ফাইল চিত্র।

প্রথম দিন ছিল এআই সম্মেলনের ভিতরে অব্যবস্থা ও হেনস্থা। তার পর গত রাত এবং আজ সকালে এআই সম্মেলনের ফলে গোটা দিল্লি নট নড়নচড়ন। ফলে সম্মেলনে আসা বিদেশি অতিথি বা দেশের রাজধানীর সাধারণ নাগরিক, চূড়ান্ত হেনস্থার মুখে পড়লেন সকলেই। বৃহস্পতিবার সকালে যানজটের জেরে বিচারপতি, আইনজীবীরা ঠিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছতে না পারায় প্রধান বিচারপতির এজলাসেই আধ ঘণ্টা দেরিতে শুনানি শুরু হল। পরিস্থিতি এমনই যে ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ইনফোসিস প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণমূর্তির জামাই ঋষি সুনক মঞ্চ থেকেই কটাক্ষ করে বললেন, ‘‘এআই অনেক কিছুই পারে, কিন্তু দিল্লির ট্রাফিককে শুধরোতে পারে না।’’

সোমবার থেকে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠান থাকায় সম্মেলনে ঢোকার জন্য অতিথিদের দু’-তিন ঘণ্টা রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। গতকাল ভারত মণ্ডপমে ছিল বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজ। তার জন্য দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সভাস্থলের কাছে ট্যাক্সি বা অন্য গাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভারত মণ্ডপমের কাছে মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বুধবার রাত থেকে সম্মেলন থেকে বেরিয়ে বিদেশি অতিথি, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে দেশের উদ্যোগপতিদের রাস্তায় তিন-চার কিলোমিটার হাঁটতে হয়। নয়াদিল্লি জুড়ে যানজট তৈরি হওয়ায় বহু মানুষ দু’তিন ঘণ্টা গাড়িতে আটকে ছিলেন। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আজ এআই সম্মেলনে রাষ্ট্রনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা ছিল। তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে নতুন করে দিল্লি অচল হয়ে পড়ে। এআই সম্মেলন যেখানে হচ্ছে, সেই ভারত মণ্ডপমের সামনেই সুপ্রিম কোর্ট। যানজটের জেরে রোজকার নিয়ম মতো সকাল সাড়ে দশটার বদলে বেলা ১১টায় প্রধান বিচারপতির এজলাসে শুনানি শুরু হয়।

কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, দিল্লিতে এখন ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার চলছে। কেন্দ্র, রাজ্য, পুরসভা, সর্বত্র বিজেপি। দিল্লির পুলিশ অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। তারপরেও এই অব্যবস্থা কেন? কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরার কটাক্ষ, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জমানায় সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানকে কোলাকুলি করা, ছবি তোলার উৎসবে পরিণত করে ফেলা হয়। এআই সম্মেলন উদ্ভাবন নিয়ে চিন্তাভাবনার আদানপ্রদানের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারত। তার বদলে রোবট-কুকুর বা ড্রোনের মতো সস্তার চিনা পণ্যের বাজার হয়ে গেল।’’

প্রধানমন্ত্রী আজ এআই সম্মেলনে তাঁর বক্তৃতার শেষে প্রায় রাজনৈতিক সমাবেশের মতো একসঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষকর্তাদের হাত ধরাধরি করিয়ে ছবি তোলেন। তাঁর এক দিকে ছিলেন গুগল-এর সুন্দর পিচাই। অন্য দিকে ছিলেন ওপেনএআই সংস্থার সিইও স্যাম অল্টম্যান। তিনি কী করতে হবে, বুঝতে না পেরে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। অল্টম্যানের পাশে ছিলেন তাঁর সংস্থার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিক-এর প্রধান দারিও আমোদেই। তাঁদের মধ্যে ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে। অল্টম্যান, আমোদেই শেষে হাত না ধরে হাত মুঠো করে উপরে তুলে ধরেন। এ নিয়েও বিরোধীরা মোদীকে কটাক্ষ করেছেন।

বিশ্ববিখ্যাত এআই বিজ্ঞানী সারা হুকার সম্মেলনে এসেছেন। বুধবার তাঁর বক্তৃতাও ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যোগ দেওয়ার জন্য পোশাক বদলাতে হোটেলে যান। কিন্তু যানজটের জেরে নৈশভোজে পৌঁছতে পারেননি। অগত্যা হোটেলের ঘরেই নৈশভোজ সারতে হয় তাঁকে। সম্মেলনের অতিথি বনশিকা গর্গ জানান, তিনি ভারত মণ্ডপম থেকে বেরিয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার হেঁটে মেট্রো স্টেশনে পৌঁছন। কারণ, কাছের মেট্রো স্টেশন বন্ধ ছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন