ইফতারের আসরে আলোচনায় বিজেপি, জেডিইউ-সহ এনডিএ নেতারা। পটনায়। — নিজস্ব চিত্র।
বিধানসভা ভোট হয়েছিল ২৪৩ আসনে। মাসছয়েকের মধ্যে রাজ্যসভার নির্বাচন ৬টি আসনে। রাজ্যসভার এ বারের এই ভোট সব অর্থেই উচ্চস্তরীয়! এবং সেই ভোট ঘিরে আপাতত টানটান উত্তেজনা যুযুধান দুই শিবিরে!
বিহারে ১২ বছর পরে রাজ্যসভার আসনে ফের ভোটাভুটি হতে চলেছে। রাজ্য থেকে খালি হওয়া পাঁচ আসনে এনডিএ-র তরফে প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার (আরএলএম) নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর এবং বিজেপি নেতা শিবেশ রাম। পক্ষান্তরে, প্রধান বিরোধী দল আরজেডি প্রার্থী করেছে তাদের বিদায়ী সাংসদ ও উদ্যোগপতি অমরেন্দ্র ধরি সিংহকে। পাঁচ আসনে ৬ জন প্রার্থী থাকায় সোমবার রাজ্যসভার জন্য ভোটাভুটি অনিবার্য। নিজেদের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে দুই শিবিরেই চলছে অঙ্ক কষা।
মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন প্রার্থী থাকায় এই রাজ্যসভা ভোট নিয়ে এনডিএ শিবির প্রত্যাশিত ভাবেই মরিয়া। তবে বিহারের বিধানসভায় দুই শিবিরের যা বিধায়কের অঙ্ক, তাতে এনডিএ-র চার প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। পঞ্চম প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে গেলে বাড়তি তিন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন শাসক শিবিরের। আবার আরজেডি-র পক্ষেও (এখন তাদের বিধায়ক ৩৫) একক শক্তিতে নিজেদের প্রার্থীকে রাজ্যসভায় পাঠানো সম্ভব নয়। তাদের দরকার আরও ৬ জনের ভোট। এই অঙ্কের হিসেবেই উঠে আসছে ‘ক্রস ভোটিং’-এর চর্চা।
রাজ্যসভার ভোটে বিধায়কদের উপরে ‘হুইপ’ জারি করা যায় না। তবে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ব্যালট দেখিয়ে বাক্সে ফেলেন বিধায়কেরা। সূত্রের খবর, পটনায় শনিবার রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপির সম্রাট চৌধরি এবং জেডিইউয়ের কার্যকরী সঞ্জয় ঝা-র বৈঠকে ঠিক করে নেওয়া হয়েছে, এনডিএ-র কোন বিধায়ক কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন। বিধায়কদের সেই হিসেব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকের পরে সম্রাট দাবি করেছেন, এনডিএ-র পাঁচ প্রার্থীই জয়ী হবেন। আর সঞ্জয়ের মন্তব্য, ‘‘বিরোধী জোট থেকে অনেক ভোট ভাঙবে! দেখতে থাকুন!’’ প্রসঙ্গত, প্রার্থী নিতিন বাঁকিপুরের বিধায়ক হিসেবে নিজেও রাজ্যসভার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
হাত গুটিয়ে বসে নেই আরজেডি-ও। বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘মহাগঠবন্ধনে’ শামিল হতে চেয়ে এমআইএম-এর আর্জিতে সাড়া দেননি আরজেডি ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে রাজ্যসভায় নিজেদের প্রার্থীর রাস্তা পরিষ্কার করতে আরজেডি নেতা তথা বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব যোগাযোগ করেছেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসির সঙ্গে! রাজ্যে এমআইএম-এর এখন পাঁচ বিধায়ক, তাঁরাও তার পরে পটনায় এসে তেজস্বীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এমআইএম-এর রাজ্য সভাপতি আখতারুল ইমান রবিবার তাঁদের ইফতার পার্টিতে তেজস্বীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, ওয়াইসিও সেখানে থাকতে পারেন। রাজ্যসভার ভোটাভুটির আগের সন্ধ্যায় সেই আসরেই দু’পক্ষের সমঝোতা চূড়ান্ত হবে বলে সূত্রের খবর। আরজেডি নেতা রামানন্দ যাদব অবশ্য দাবি করছেন, এমআইএম-এর পাঁচ এবং বিএসপি-র এক বিধায়কের সমর্থনে তাঁদের রাজ্যসভায় প্রতিনিধি পাঠানো সময়ের অপেক্ষা। পরিস্থিতি ‘ইতিবাচক’।
এনডিএ-র বিধায়কদের গত দু’দিন ধরে পটনায় এনে রাখা হয়েছে, সোমবার ভোটের ফলের আগে তাঁদের শহর ছাড়া নিষেধ! কখনও সম্রাট, কখনও উপেন্দ্র, কখনও রাজ্যের আর এক উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সিন্হার বাড়িতে বিধায়কদের ডেকে নিয়ে বৈঠক চলছে। নীতীশ-নিতিনদের রাজ্যসভা যাত্রা নিষ্কণ্টক না-করতে পারলে বিহার বিজেপির শান্তি নেই!
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে