(বাঁ দিকে) খান স্যার। (ডান দিকে) অভিযুক্ত প্রিন্স যাদব। ছবি: সংগৃহীত।
বিহারের পটনায় জ্ঞানবিন্দু কোচিং সেন্টারের মালিক রৌশন আনন্দের ভাই প্রিন্স যাদবের মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য। রবিবার প্রিন্সের দেহ উদ্ধার হয়েছে নেপালের বিরাটনগরের একটি হোটেল থেকে। প্রিন্সের বিরুদ্ধেই খান স্যারের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দুই কোচিং সেন্টারের মধ্যে অশান্তি ছড়িয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, গুলি চলে বলেও অভিযোগ। এই টানাপড়েনের মধ্যে অভিযুক্ত প্রিন্সের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রিন্সের সঙ্গে ছয় বন্ধু নেপালে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি হোটেলে উঠেছিলেন তাঁরা। রবিবার হোটেলের ঘর থেকে প্রিন্সের দেহ উদ্ধার হয়। সূত্রের খবর, তাঁর চোখের উপরে এবং দেহের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আর এখান থেকেই সন্দেহ বাড়ছে। নেপাল পুলিশ যদিও এ বিষয়ে কিছু বলতে চায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। তার পরই স্পষ্ট হবে কী ভাবে মৃত্যু হল প্রিন্সের।
পরিবারের দাবি, সমাজমাধ্যমের সূত্র ধরে তাঁরা প্রিন্সের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছেন। পরিবার সূত্রে খবর, নেপাল পুলিশ পাঁচ জনকে আটক করেছে। জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল প্রিন্সের। সহরসার সৌরবাজার থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার মধ্যেই প্রিন্সের রহস্যজনক মৃত্যুতে নানা রকম জল্পনা জোরালো হতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালেও খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলা হয়। সেই হামলার অভিযোগ ওঠে রৌশন স্যারের ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সে সময় খান স্যারের কোচিং সেন্টারে ঢুকে তাণ্ডব চালান প্রিন্স। দুই স্যারের কোচিং সেন্টারের মধ্যে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ বেশ কয়েক বছরের। এর আগেও দুই কোচিং সেন্টার পরস্পরের বিরুদ্ধে কয়েক বার ঝামেলায় জড়িয়েছিল।
গত ২ জুন খান স্যারের কোচিং সেন্টার এবং রৌশন স্যারের জ্ঞানবিন্দু কোচিংয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে প্রথমে হাতাহাতি, পরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। বিহারের রাজধানী পটনায় খান স্যারের কোচিং ইনস্টিটিউট এবং জ্ঞানবিন্দু কোচিংয়ের সদস্যদের মধ্যে অশান্তির ঘটনায় দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশে এফআইআর দায়ের হয় খান স্যারের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হন জ্ঞানবিন্দু কোচিং সেন্টারের শিক্ষক রৌশন।