টাকার খেলা আটকাতে কড়া কোর্ট

ভোটে টাকার খেলা রুখতে এবং নেতাদের সম্পত্তির রাশ টানতে সরকার কী পদক্ষেপ করছে, তা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা লোক প্রহরী শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা করেছিল।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৩:১৭
Share:

ফাইল চিত্র।

নেতাদের টাকা লাফিয়ে বাড়ছে। ভোটে লড়তে গিয়ে হলফনামায় সম্পত্তির এক রকম হিসেব। আবার আয়কর রিটার্ন জমা দিতে গিয়ে ঝোলা থেকে বের করছেন অন্য রকম তথ্য। এই অসঙ্গতি আটকাতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন, তা নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

ভোটে টাকার খেলা রুখতে এবং নেতাদের সম্পত্তির রাশ টানতে সরকার কী পদক্ষেপ করছে, তা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা লোক প্রহরী শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা করেছিল। এই মামলাতে বিচারপতি জে চেলামেশ্বরের বেঞ্চ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, ভোটের সময়ে নির্বাচন কমিশনে নেতাদের পেশ করা হলফনামা ও তাঁদের আয়কর রিটার্নের মধ্যে ফারাক নিয়ে কোনও তদন্ত হয়েছে কিনা। সরকার নির্বাচনী সংস্কারের পক্ষে কথা বললেও এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা তুলে ধরছে না কেন, সে বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। ‘‘আপনারা নির্বাচনী সংস্কারের কথা বলেন। কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পর্কে সাধারণ তথ্যও দিতে পারেন না’’— মন্তব্য করেছে আদালত। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল পি এস নরসিংহের উদ্দেশে কোর্ট বলেছে, ‘‘ভারত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী কি এটাই? এত দিন আপনারা কী করেছেন?’’ নেতাদের সম্পত্তি নিয়ে আয়কর দফতরের একটি তদন্ত রিপোর্ট ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোর্টে পেশ করার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নরসিংহ জানান, সরকার এ নিয়ে পদক্ষেপ করবে। তখন বিচারপতি চেলমেশ্বর বলেন, ‘‘মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় রিপোর্ট পেশ করুন। আপনারা মূল তথ্য কোর্টে দিচ্ছেন না কেন?’’ বিচারপতি জানান, আয়কর দফতরের পেশ করা হলফনামার তথ্য সম্পূর্ণ নয়। ভাসা ভাসা তথ্য দেওয়া হলে কোর্ট তা গ্রহণ করবে না বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে কোর্ট বলেছে, কেন্দ্র যদি তথ্য জনসমক্ষে না আনতে চায়, তা হলে বন্ধ খামে তা আদালতে দেওয়া যেতে পারে।

মামলাকারী সংস্থাটির বক্তব্য, ভোটে জেতার পরেই জনপ্রতিনিধিদের সম্পত্তি লাফিয়ে বেড়ে যায়। ফলে নেতাদেরই শুধু নয়, তাঁদের স্ত্রী-সন্তানদের সম্পত্তির তথ্যও সামনে আনার ব্যবস্থা হোক। এই মামলায় বক্তব্য জানাতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনও ভোটে টাকার খেলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানদের আয়ের হিসেব দেওয়াকে নিশ্চিত করতে কোর্টকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছে কমিশন। চাপের মুখে মোদী সরকার কোর্টে দাবি করেছে, ভোটের জগতেও ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement