—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ছে। তার পর থেকে মনখারাপ ধূমপায়ীদের। শখের ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কত হতে পারে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন তাঁরা। এই আবহে এক শ্রেণির সিগারেট-প্রেমী নাকি সস্তায় সিগারেট পাবেন বলে বেড়াতে যাচ্ছেন ভিয়েতনাম। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সেবি-র তালিকাভুক্ত বিনিয়োগকারী রজত শর্মার এই দাবি ঘিরে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে হইচই। মশকরা যেমন চলছে, তেমনই অনেকে মনে করছেন ধূমপায়ীদের ‘দুরবস্থা’ই বলেছেন রজত।
সমাজমাধ্যমে রজতের দাবি, নয়াদিল্লিতে এক প্যাকেট মার্লবরো লাইট সিগারেটের দাম এখন ৩৪০ টাকা। জিএসটি যুক্ত হলে তার দাম দাঁড়াবে প্রায় ৪০০ টাকা। ওই সিগারেট প্যাকেটই ভিয়েতনামে মেলে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এর পরেই বাজার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, ‘‘নয়াদিল্লি থেকে হো চি মিন সিটির ফিরতি টিকিটের দাম প্রায় ২১,০০০ টাকা। তাই যদি আপনি নিয়মিত ধূমপান করেন, তা হলে ভিয়েতনামে উড়ে যান। ২০টি সিগারেট ৭৫ টাকায় কিনুন এবং ফিরে আসুন। বিমানভাড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন। ভ্রমণ এবং নেশার অন্বেষণ, দুই-ই হবে। করও সাশ্রয় করুন।’’
শনিবার রজতের এই সমাজমাধ্যম পোস্ট নিয়ে জোর আলোচনা নেটাগরিকদের। কেউ বলছেন, বাজার বিশেষজ্ঞ হয়ে লাভের কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্য খারাপ করার পরামর্শ দিচ্ছেন রজত। তাঁদেরই এক জন লিখেছেন, ‘‘আরও একটি বিকল্প আছে। ধূমপান ত্যাগ করে এখনই হাসপাতালে ভর্তির হওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা বাঁচিয়ে নিতে পারেন। আরও সুখে জীবন কাটাতে পারেন।’’ বাকিরা আরও গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। সীমান্তের ওই পারে সিগারেট বহন সম্পর্কিত আইনি বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করেছেন তাঁরা। একজন রজতের পোস্টের প্রেক্ষিতে লিখেছেন, ‘৫ প্যাকেটের বেশি সিগারেট তো আনতে পারবেনই না। আরও বেশি পেতে পারেন। সে জন্য আপনাকে শুল্ক দিতে হবে। যাতে ভ্রমণখরচ আরও বাড়বে।’
অন্য দিকে, রজতের কটাক্ষ, ‘‘ভাগ্যিস এ দেশের ধূমপায়ীরা অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন না। সেখানে তো এক প্যাকেট সিগারেটের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা।’’
সম্প্রতি পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি (গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স) নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। তাতে বলা হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিগারেট, বিড়ি এবং তামাকজাত দ্রব্যের উপর ৪০ শতাংশ হারে কার্যকর হবে জিএসটি। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড জিএসটির হার ২৮ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া আবগারি শুল্ক এবং জাতীয় বিপর্যয় সংক্রান্ত কর বা এনসিসিডির (ন্যাশনাল ক্যালামেটি কন্টিনজেন্ট ডিউটি) নতুন কাঠামোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছে কেন্দ্র। ফলে ফেব্রুয়ারি থেকে সাদাকাঠির ‘সুখটান’ যে বেশ দামি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।