Mithun In Cooch Behar

ভক্তের ইচ্ছাপূরণ করলেন মিঠুন! আনন্দবাজার ডট কম-এর খবর পড়ে মামণির কাছ থেকে নিলেন ফল খাওয়ার টাকা

শুক্রবার কোচবিহারের পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার মাঠে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প’ সভায় প্রধানবক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। মিঠুনকে দেখার ভিড়ে হাজির ছিলেন মামণি সরকার। তাঁর আফসোসের কথা আনন্দবাজার ডট কম থেকে জানতে পারেন অভিনেতা-নেতা মিঠুন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০০
Share:

শুক্রবার ভক্ত মামণি সরকার সম্পর্কে প্রতিবেদন দেখে শনিবার তাঁকে হোটেলে ডেকে দেখা করেন মিঠুন চক্রবর্তী। —নিজস্ব ছবি।

ভক্তকে নিরাশ করলেন না মিঠুন চক্রবর্তী। শুক্রবার আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিবেদন পড়ে কোচবিহারের মামণি সরকারের সঙ্গে দেখা করলেন পর্দার ‘মহাগুরু।’ প্রিয় নায়কের হাতে উপহার তুলে দিতে পেরে আনন্দে অশ্রুসজল হলেন ভক্ত। আবেগবিহ্বল তারকা বললেন, এই ভালবাসার জন্যই তো বেঁচে থাকা।

Advertisement

শুক্রবার কোচবিহারের পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার মাঠে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প’ সভায় প্রধানবক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন। বিজেপির রাষ্ট্রীয় কার্যকারিণী কমিটির সদস্য তথা অভিনেতা মিঠুনকে দেখার ভিড়ে হাজির হয়েছিলেন মামণিও। কোচবিহারের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের গান্ধী কলোনির বাসিন্দা মামণি জানান, অভিনেতার অন্ধভক্ত তিনি। ১৯৮৮ সালে একবার কোচবিহারে গিয়েছিলেন মিঠুন। সে বার তাঁকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। ফুলের তোড়া তুলে দিয়েছিলেন ‘ডিস্কো ডান্সার’-এর হাতে। মামণি এখন ৫০। বিজেপির কর্মী নন তিনি। রাজনীতি বোঝেন না। শুধু মিঠুনকে দেখার জন্য সব কাজ ফেলে ছুটে গিয়েছিলেন বিজেপির সভায়। অভিনেতার হাতে ৫০০ টাকা তুলে দিতে চেয়েছিলেন। যাতে ফল কিনে খান। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে অভিনেতাকে আর ছুঁতে পারেননি। মিঠুনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে আনন্দবাজার ডট কম-এ ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরে তিনি মামণির সঙ্গে দেখা করতে চান। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘‘উনি বলেছিলেন, ‘মামণি যেখানেই থাকুন, তাঁকে যেন সসম্মানে আমার কাছে আনা হয়।’’’ শনিবার মামণিকে নিতে বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়েছিলেন মিঠুন। কোচবিহারের হোটেলে সাক্ষাৎ হল নায়ক এবং ভক্তের।

চোখে জল মামণির। তিনি জানান, সভায় ৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন হাতে ৫০০ টাকা নিয়ে। নায়কের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে তাঁকে ফল কেনার জন্য ওই টাকা দিতে চেয়েছিলেন। ইচ্ছা পূরণ হয়নি বলে মলিন হয়েছিল মুখ। শনিবার সেই মুখে হাসি। মামণি সলজ্জে স্বীকার করেন, শুক্রবার একটা মিথ্যা বলেছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘দুঃখে নিজের কর্মপরিচয় বলতে পারিনি। তখন বলেছিলাম বাড়িতে কাজ করি। আসলে আমি একটি সরকারি দফতরে চতুর্থ শ্রেণির ঠিকাকর্মী।’’

Advertisement

মিঠুনের হাতে এক হাজার টাকা, চকোলেট আর ছোট্ট একটি গোপাল ঠাকুরের মূর্তি তুলে দিয়েছেন মামণি। ‘মহাগুরু’কে দেখার অভিজ্ঞতা কেমন? উজ্জ্বল হয়ে ওঠে প্রৌঢ়ার মুখ। তিনি বলতে থাকেন, ‘‘সকালে দরজা খুলতেই দেখি, মহাগুরুর পাঠানো লোকেরা গাড়ি নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে! তার পর আমি বিলাসবহুল হোটেলে গেলাম। ওঁর সঙ্গে দেখা করলাম। ৫০০ টাকার পরিবর্তে ১০০০ টাকা দিলাম। আমার ইচ্ছেপূরণ হল। খুব ভাল লাগছে। আমাকে উনি বলেছেন, কোচবিহারে আসলেই আবার আমার দেখা করবেন। ঠাকুর আমার প্রার্থনা রেখেছে।’’

এমন ভক্তের সঙ্গে দেখা করে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন মিঠুনও। তিনি বলেন, ‘‘এই ভালবাসা কী আর কোনও ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? উনি পয়সাটা জমিয়েছেন যাতে আমি ফলমূল খেতে পারি। এই ভালবাসা অমূল্য। আমি খবরে পড়ার পর ওঁকে ডেকে পাঠালাম। এটাই প্রকৃত ভালবাসা। এই ভালবাসার জন্যই বেঁচে আছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement