স্মার্টসিটিতে ঠাঁই নেই, হতাশ শহর

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাসের পরও স্মার্ট হওয়ার সুযোগ মিলল না শিলচর শহরের। প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দফায় দফায় আশ্বাস, পরবর্তী সময়ে পুরপ্রধানকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ---সব মিলিয়ে আশায় ছিলেন শিলচরের মানুষ। কিন্তু অসমের জন্য একটিমাত্র শহর বরাদ্দ হতেই শিলচরের সুযোগ না-মেলা প্রায়-নিশ্চিত হয়ে যায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০১৫ ০৩:৩৩
Share:

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাসের পরও স্মার্ট হওয়ার সুযোগ মিলল না শিলচর শহরের। প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দফায় দফায় আশ্বাস, পরবর্তী সময়ে পুরপ্রধানকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ---সব মিলিয়ে আশায় ছিলেন শিলচরের মানুষ। কিন্তু অসমের জন্য একটিমাত্র শহর বরাদ্দ হতেই শিলচরের সুযোগ না-মেলা প্রায়-নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষপর্যন্ত তা-ই হল। কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের সেই একশো শহরের তালিকায় শিলচর স্থান পায়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে শহরবাসীর মনে। সঙ্গে চলছে রাজনৈতিক তরজার লড়াই। কাল দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে স্মার্টসিটি প্রকল্পের সূচনা করেন। এই প্রকল্পে দেশের একশোটি শহরকে ঝা চকচকে করে তোলা হবে। পানীয় জল বা বিদ্যুতের কোনও সমস্যা থাকবে না। নাগরিক স্বাচ্ছন্দের জায়গায় পূর্ণ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

Advertisement

‘স্মার্ট সিটি’ শব্দটিকে শিলচরবাসীর সঙ্গে প্রথমে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। শিলচর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের ঠিক আগে অত্যন্ত কৌশল করে সাংবাদিকদের শুনিয়ে দিয়েছিলেন, ‘কেন্দ্র স্মার্ট সিটি বানানোর জন্য একশো শহরের তালিকা তৈরি করছে। শিলচরবাসীর পক্ষ থেকে আমার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, এই শহরকেও তালিকাভুক্ত করতে। ভোটের আগে সব কথা বলা যায় না, তবে এ-টুকু বলতে পারি, এই সুযোগ শিলচরের না-পাওয়ার কোনও কারণ নেই।‘ পরদিন থেকেই প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ হয়, বিজেপি জানিয়ে দেয়, মোদির ইচ্ছেয় স্মার্ট সিটি হচ্ছে শিলচর।

গতমাসেও শিলচর এসে সর্বানন্দ সোনোয়াল স্মার্ট সিটির কথা বলে যান। কংগ্রেস অবশ্য আগে থেকেই একে সর্বা-ধাপ্পা বলে অভিহিত করেছিলেন। এরই জবাবে সে দিন সর্বানন্দ সোনোয়াল ফের উল্লেখ করে যান, নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, শিলচর স্মার্ট সিটি হবেই।

Advertisement

উপনির্বাচনে জেতা বিজেপি বিধায়ক দিলীপকুমার পাল তালিকা প্রকাশের কথা শুনে বলেন, ‘আমরা আশাহত নই। প্রথম তালিকায় সবাই ঢুকে যাবে, তা হতে পারে না। পরবর্তী তালিকায় অবশ্যই শিলচরের নাম থাকবে।’ তিনি অসম সরকারকে দোষারোপ করে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রক পাঁচটি নাম চেয়েছিল। গগৈ সরকার শিলচরের নামই দেয়নি। পরে আমাদের চাপে নগরোন্নয়ন শিলচরের নাম প্যানেলভুক্ত করেছে।’

স্মার্ট সিটির আশা ক্ষীণ হতে দেখে ক-দিন থেকেই বিজেপি নেতারা এই কথা বলে আসছিলেন। সাধারণ মানুষও একে রাজনৈতির চমক হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু স্মার্ট সিটি সহ তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিলচরের পুরপ্রধান নীহারেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুরকে আমন্ত্রণ করায় বিজেপি নেতারা নতুনভাবে আশা জাগিয়ে তোলেন। এমনভাবে বিষয়টিকে প্রচার করেন যেন, বিভাগীয় মন্ত্রী এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু স্মার্ট সিটি-র মোয়া বানিয়ে রেখেছেন, নীহারবাবু গেলেই তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

কংগ্রেস এখন একেই ইস্যু করে ময়দানে নামছে। কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব বলেন, ‘সর্বানন্দ সোনোয়াল আমাদের আবেগিক বিষয়গুলিকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন। একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সবকিছুতে এমন অবহেলা উচিত হন। এখন সর্বানন্দ সোনোয়ালের কোনও কথা বলা মানে সরকারেরই বলা।’

তাঁর কথায়, লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদি যা করেছিলেন, উপনির্বাচনের আগে সর্বানন্দ তাই করলেন। একজন ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার সবাইকে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন চুপ করে

বসে রইলেন। সর্বানন্দও স্মার্ট সিটি-র কথা বলে আর জায়গামতো তদ্বির করলেন না।

দিলীপবাবুর দ্বিতীয় তালিকার কথা শুনে হেসে সুস্মিতা বলেন, ‘এ তো আম্রুত। অটল মিশন ফর রেজুভিনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফর্মেশন। আগেও ছিল। আমাদের সময় এটি ছিল জওহরলাল নেহরুর নামে। এখন অটল মিশন। এতে বিশেষ কোনও লাভ নেই।’

প্রাক্তন পুরপ্রধান শান্তনু দাস অনেক দিন থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে নেই। স্মার্ট সিটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতেই চাইলে সোজাসুজি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করিনি। কারণ কেন্দ্র-রাজ্য কেউ চাইবে না, কোনও ভাল প্রকল্প শিলচরে আসুক। এ ছাড়া, এ ধরনের কথা শুনতে শুনতে এত অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, এখন আর কোনও কথায় আশা জাগে না।’ শহরের সংস্কৃতি কর্মী বিশ্বজিত শীল বললেন, ‘নেতা-মন্ত্রীরা যে আমাদের আশ্বাসগুলি দেন, সেগুলি কি মাটির ওপর দাঁড়িয়ে দেন, নাকি বাতাসে ভেসে দেন, সেটাই তাঁদের কাছে জানতে ইচ্ছে করছে। দিলীপবাবু দ্বিতীয় পর্যায়ের স্বপ্ন দেখালেও আমরা আর তা আশা করি না।’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement