রোহিত প্রশ্নে আক্রমণে স্মৃতি, নিশানায় ডেরেক

রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার জেরে ছাত্র-বিক্ষোভের অন্যতম নিশানা এখন স্মৃতি ইরানি। আর স্মৃতির নিশানা তৃণমূল ও পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:০৪
Share:

দুর্গাপুরের জনসভায় স্মৃতি ইরানি ও সিদ্ধার্থনাথ সিংহ। বুধবার। ছবি: বিকাশ মশান

রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার জেরে ছাত্র-বিক্ষোভের অন্যতম নিশানা এখন স্মৃতি ইরানি। আর স্মৃতির নিশানা তৃণমূল ও পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা।

Advertisement

হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে দলিত ছাত্রের আত্মহত্যায় দাবি উঠছে শ্রমমন্ত্রী বন্দারু দত্তাত্রেয় ও মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতিকে সরাতে হবে নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা থেকে। সরাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আপ্পা রাওকে। এই দাবিতে আজ দিল্লিতে মিছিল করে বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন। বেঁচে থাকলে আগামী শনিবার ২৭ বছরে পা দিতেন রোহিত। ওই দিন দিল্লিতে আরও বড় আকারে বিক্ষোভ দেখাবে দেশের প্রায় ২০০টি ছাত্র-সংগঠন। উপাচার্য আপ্পা রাও ছুটিতে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে সেখানে। এরই মধ্যে স্মৃতি আজ পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ শানান ওই রোহিত প্রসঙ্গ তুলেই।

রোহিতের মৃত্যুর পরপরই হায়দারাবাদে গিয়েছিলেন তৃণমূলের দুই সাংসদ। তাঁদের অন্যতম ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নিশানা করে স্মৃতি আজ দুর্গাপুরে রাজীব গাঁধী ময়দানে এক জনসভায় বলেন, ‘‘ওঁর কাছে হায়দরাবাদে গিয়ে ভোট-ব্যাঙ্কের তামাশা করা বেশি জরুরি।’’ তার পরেই স্মৃতির অভিযোগ, গত বছর মে মাসে নদিয়াতে তিন দলিতকে খুনের ঘটনায় এক তৃণমূল নেতা জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনা নিয়ে ডেরেকের প্রতিক্রিয়া জানতে চান মন্ত্রী।

Advertisement

যদিও স্মৃতির অভিযোগ ফাঁপরে ফেলেছে বিজেপিরই স্থানীয় নেতৃত্বকে। গত বছর নদিয়ার কালীগঞ্জে এক সংঘর্ষে তিন যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। স্মৃতি ঠিক সেই ঘটনার কথা বলেছেন কি না, বিজেপির নদিয়া জেলা নেতৃত্বের কাছেই তা স্পষ্ট নয়। স্মৃতির অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না তৃণমূল নেতৃত্বও। ডেরেক বা তৃণমূলের অন্য কোনও প্রথম সারির নেতা প্রকাশ্যে মুখও খোলেননি এ নিয়ে। ঘরোয়া আলোচনায় তৃণমূলের এক সাংসদের শুধু মন্তব্য, ‘‘গোলমাল যা পাকিয়ে রয়েছে, স্মৃতির হাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক কত দিন থাকে দেখা যাক! তার পরে না হয় ওঁর বক্তব্যের জবাব দেওয়ার কথা ভাবা যাবে!’’

রোহিতের আত্মহত্যার দায় নিয়ে অবিলম্বে স্মৃতি ও বন্দারুর ইস্তফা এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে দিল্লিতে আজ মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সামনে বিক্ষোভ দেখান জহওরলাল নেহরু, জামিয়া মিলিয়া ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। মান্ডি হাউস মেট্রো স্টেশন থেকে শাস্ত্রী ভবন পর্যন্ত দু’কিলোমিটার পথ তাঁরা মিছিল করে যান। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে লাঠিও চালাতে হয়। আটক করা হয় প্রায় শ’খানেক ছাত্র-ছাত্রীকে। একই ছবি দেখা গিয়েছে চেন্নাইয়েও। রোহিতের পাশাপাশি ওই রাজ্যে মেডিক্যালের তিন ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। ২০০টি ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে গড়া জাতীয় জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি জানিয়েছে, আগামী শনিবার রোহিতের জন্মদিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা দিল্লিতে পদযাত্রা করে রোহিতের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছুটিতে যাওয়ার পরে অস্থায়ী ভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিপিন শ্রীবাস্তব। তিনি ছাত্রদের সঙ্গে বৈঠক করলেও বিক্ষোভরত ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। ফলে আগামী ক’দিন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

রোহিতের মৃত্যুর পরে সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর মন্ত্রকের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন স্মৃতি। ঘটনার পাঁচ দিন পরে মুখ খুলে কার্যকারণ ও রাজনীতিকে সরিয়ে রেখে আবেগ-অস্ত্রে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিতর্ক তাতেও মেটেনি। বরং সরকারের উপরে ক্রমেই চাপ বাড়াচ্ছে ছাত্র সংগঠনগুলি। এরই মধ্যে আজ প্রথম বার দেখা গেল, বিষয়টি নিয়ে বিজেপির কোনও নেতা বা মন্ত্রী পাল্টা আক্রমণে গেলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement