Ladakh Unrest

‘আলোচনার মাধ্যমে লাদাখের সমস্যার সমাধানে আমি আশাবাদী’, কারামুক্তির পরে অশান্তির আবহে বললেন ওয়াংচুক

শনিবার, ওয়াংচুককে জোধপুর জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার পরেই নতুন করে অশান্তি ছড়িয়েছে লাদাখে। উঠেছে, লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্ত করে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ২২:০০
Share:

সোনম ওয়াংচুক। —ফাইল চিত্র।

আলোচনার মাধ্যমে উন্নয়নের সমস্যা নিরসনের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। লাদাখে নতুন করে অশান্তির আবহে মঙ্গলবার এই দাবি করলেন, রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। প্রায় ছ’মাস কারাবন্দি থেকে মুক্তির পরে এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তিনি। ওয়াংচুকের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী তথা ‘হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অলটারনেটিভস্‌ লাদাখ-এর অন্যতম কর্ণধার গীতাঞ্জলি জে আংমো।

Advertisement

লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্ত করে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। সোমবার থেকেই রাজধানী লেহ্‌-সহ বিভিন্ন জনপদে হাজার হাজার মানুষ পথে নেমেছেন। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ঘটনাচক্রে, সেপ্টেম্বরের সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ওয়াংচুকের মুক্তির পরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মু ও কাশ্মীর ভেঙে তৈরি হওয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে।

লাদাখের দুটি প্রতিনিধি সংস্থা, অ্যাপেক্স বডি লেহ্ (এবিএল) এবং কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ)-এর তরফে সোমবারের বন্‌ধের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তাদের ১৫ সদস্যের ‘হাই পাওয়ার্ড কমিটি’ (এইচপিসি) ষষ্ঠ তফসিল-সহ পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের দাবিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এবিএল এবং কেডিএ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। যা আমাদের বৈধ ভাবে প্রাপ্য তা থেকে আমরা সরে আসব না।’’ লেহ্‌ কাউন্সিলের পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৫-এর নভেম্বরে শেষ হয়েছে কিন্তু নতুন নির্বাচন হয়নি কেন, সে প্রশ্নও তুলেছে তারা। ওয়াংচুক জানিয়েছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার অর্থবহ পরিণতির বিষয়ে তিনি আশাবাদী। প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের রাজধানী লেহ্‌তে হিংসাত্মক বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ওয়াংচুককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

Advertisement

ওই বিক্ষোভে চার জন নিহত এবং ১৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনপর্বে লাদাখে পুলিশ গুলিতে চার জন মারা গিয়েছিলেন। এর পরে ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার, ওয়াংচুককে জোধপুর জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার পরেই নতুন করে অশান্তি ছড়িয়েছে লাদাখে। এইচপিসি সদস্য এবং এবিএল-এর ভাইস চেয়ারম্যান চেরিং ডরজাই ল্যাকরুক সোমবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘‘বিপুল জনতার অংশগ্রহণ সত্ত্বেও প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল। পুলিশ আমাদের থামাতে কয়েকটি ব্যারিকেড তৈরি করেছিল, কিন্তু আমরা সকলকে ধৈর্য ধরে থাকার আহ্বান জানিয়েছি।’’ ওয়াংচুক মঙ্গলবার কেন্দ্রকে সক্রিয় হওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘‘সাধারণত, আপনারা দেখেন মানুষ অস্ত্র তুলে নিচ্ছে এবং সরকার আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে। এখানে, মানুষ সরকারকে আলোচনা শুরু করার জন্য অনুরোধ করছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement