খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার

একেবারে টানটান অনুষ্ঠান। বরাক উপত্যকা ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা আয়োজক হলেও আগাগোড়া ছিল কর্পোরেট চেহারা। মঞ্চসজ্জা, সঞ্চালনা থেকে সংবর্ধনা সামগ্রী নিয়ে আসা দুই শিশুর হাঁটাচলা— ছন্দপতন ঘটেনি ছিটেফোঁটাও।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অগস্ট ২০১৬ ০৩:৪৮
Share:

একেবারে টানটান অনুষ্ঠান। বরাক উপত্যকা ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা আয়োজক হলেও আগাগোড়া ছিল কর্পোরেট চেহারা। মঞ্চসজ্জা, সঞ্চালনা থেকে সংবর্ধনা সামগ্রী নিয়ে আসা দুই শিশুর হাঁটাচলা— ছন্দপতন ঘটেনি ছিটেফোঁটাও। বরং খেলোয়াড়দের ফ্যাশন শো-র কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হয়।

Advertisement

সবার মুখে প্রায় একই কথা শোনার মতো বিরক্তিকর ব্যাপারও ছিল না। পুরো কর্মসূচিতে একটিই ভাষণ। অসিত ধর স্মারক বক্তৃতা। বক্তা নির্বাচনেও মুন্সিয়ানা দিয়েছেন আয়োজকরা। স্মারক ভাষণ দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি কমলেন্দু ভট্টাচার্য। তাঁর সুচিন্তিত মন্তব্য শোনার জন্য সাধারণ সময়েও মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। গত কালও তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য বঙ্গভবনে উপস্থিত সবাই মুখিয়ে ছিলেন।

১৯৯৭ সালে আত্মপ্রকাশ করে বরাক উপত্যকা ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা। সে হিসেবে এ বার ২০ বছরে পা রাখল সংস্থা। এই উপলক্ষেই এত আয়োজন। সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির অধীনে রয়েছে তিনটি জেলা কমিটি। সবাই পৃথক ভাবে প্রতি বছর বর্ষসেরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করে। কিন্তু এ বার বিশেষ বর্ষে তিন জেলার বর্ষসেরারাই কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত হয়েছেন। সঙ্গে সম্মান জানানো হয় এই অঞ্চলের চার ক্রীড়াব্যক্তিত্বকে। ক্রীড়াক্ষেত্রে আজীবন অবদানের জন্য ব্লেজার পরিয়ে সম্মান জানানো হয় ক্রীড়াবিদ সমরেন্দ্র সোমকে। বিশেষ সম্মান জানানো হয় শিলচর ডিএসএর স্টেডিয়াম সচিব চন্দন শর্মাকে। সেরা সংগঠক হিসেবে সংবর্ধিত হলেন হাইলাকান্দির বিধুমুখী সিংহ, কাছাড়ের অজয় চক্রবর্তী। করিমগঞ্জের জহর দাসকে প্রদান করা হয় মরণোত্তর সম্মাননা। শুরুতেই করিমগঞ্জের সায়ন্তন ভট্টাচার্য সিন্থেসাইজারে সুর তুলে বুঝিয়ে দেন, এ এক ভিন্ন স্বাদের অনুষ্ঠান। এস ডি ডান্স অ্যাকাডেমির দেশাত্মবোধক নৃত্য, কৃষ্ণকলি পম্পার অভিনব নাচ, দেবলীনা বর্মণ, শ্বেতা রায়, কল্পিতা বিশ্বাস, পূজা পাল, সন্দীপনা নাথ ও সানু সিংহের সমবেত নৃত্যানুষ্ঠান— সব ছিল মনে রাখার মতো। কু উশু কুংফু অ্যাকাডেমি এবং গাজুরিয়া ক্যারাটে অ্যাকাডেমির মার্শাল আর্ট অনুষ্ঠানটিকে পূর্ণতা পাইয়ে দিয়েছে।

Advertisement

বিভিন্ন খেলায় বর্ষসেরা হিসেবে পুরস্কৃত হন কাছাড়ের রাজীব দাস, পওদুম রংমাই, রাজকুমার দাস, আশরাফুল লস্কর, সুরজ গোয়ালা, শঙ্কর দে, মৃদুপবন দত্ত ও আপ্পিমণি লস্কর, করিমগঞ্জের চিত্ত রায়, মানব ভট্টাচার্য, শিবুল নমঃশূদ্র, ইকবাল আহমদ, ও অংশুমান বর্ধন, হাইলাকান্দির প্রেমিতা সিংহ, এল কিষাণ সিংহ, পার্থ শর্মা, তৌসিফ ইকবাল লস্কর, এইচ ববিতা সিংহ ও মুস্তাফিজুর রহমান মজুমদার।

নজর কেড়েছে দুই শিশু আয়ুস্মিতা দাস ও সাক্ষ্মী পাল। নার্সারি পর্যায়ের দুইজনই সংবর্ধনা সামগ্রী নিয়ে বারবার মঞ্চে এসেছে, বেরিয়ে গিয়েছে। তাও একেবারে ছন্দ মেনে। অনুষ্ঠান টানটান রাখার ক্ষেত্রে সঞ্চালক অনির্বাণজ্যোতি গুপ্তের ভূমিকা কম নয়। অনুষ্ঠান শেষে বাকসের পক্ষে হিতব্রত ভট্টাচার্য, তাজউদ্দিন, সায়ন বিশ্বাসরা জানান, প্রতিদিনকার পেশাগত দায়িত্ব পালন করে এই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য সময় বের করা বড় কঠিন হয়ে পড়ে। দু’দিনের বেশি মহড়ার সুযোগ মেলেনি।

কাছাকাছি যাঁরা দাঁড়িয়ে ছিলেন, মন্তব্যের লোভ সামলাতে পারেননি। অনেকেই বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে চান, মাত্র দুই দিনে…?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement