Supreme Court On Russian Woman Case

গুপ্তচর বৌমা: চার সপ্তাহের মধ্যে সপুত্র রুশ তরুণীকে খুঁজে বার করতে হবে, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সোমবার আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বেঞ্চকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানান, ভিক্টোরিয়া ও শিশুটির সন্ধান পেতে তাঁদের তরফ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:১৩
Share:

চন্দননগরের বাসিন্দা সৈকত বসুর অভিযোগ, তাঁর সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন রাশিয়ান স্ত্রী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এখনও অধরা চন্দননগরের বসু পরিবারের রুশ বৌমা ভিক্টোরিয়া জিগালিনার এবং তাঁর পাঁচ বছরের শিশুপুত্র। কেন্দ্রের আইনজীবীর অনুরোধে তাঁদের খুঁজে বার করতে অতিরিক্ত সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, সোমবার শীর্ষ‌ আদালতের নির্দেশ, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিশুপুত্র-সহ রুশ তরুণীকে খুঁজে বার করতে হবে। ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে তাঁর স্বামী সৈকত বসুর তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই নিয়ে আইনি লড়াইও চলছিল। এর মাঝেই নিজের সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান ভিক্টোরিয়া। তার পর থেকে রুশ মহিলা ও তাঁর পুত্রের আর কোনও খবর পাওয়া যায়নি। মনে করা হচ্ছে তিনি সপুত্র নেপাল, শারজা হয়ে রাশিয়ায় চলে গিয়েছেন।

Advertisement

সোমবার আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বেঞ্চকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানান, ভিক্টোরিয়া ও শিশুটির সন্ধান পেতে তাঁদের তরফ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিসও জারি করা হয়েছে। এর পরেই তিনি আদালতে বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের কয়েক সপ্তাহ সময় দিলে আমরা একটি স্টেটাস রিপোর্ট পেশ করতে পারব।” আদালত এই অনুরোধ মঞ্জুর করে চার সপ্তাহ সময়সীমা বরাদ্দ করেছে। এর আগে এই মামলা সংক্রান্ত রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে শীর্ষ আদালতে জমা করেছিল দিল্লি পুলিশ ও বিদেশ মন্ত্রক।

মস্কোতে ভারতীয় দূতাবাসের এবং রুশ ফেডারেশনের তদন্ত কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এর আগে বেঞ্চ জানিয়েছিল, তারা এমন কোনও নির্দেশ দিতে চায় না, যা ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আদালত বিদেশ মন্ত্রক ও দূতাবাসের মধ্যে সঠিক এবং নিয়মিত যোগাযোগের উপর জোর দিয়েছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, ভারতীয় নাগরিক সৈকতকে বিয়ে করার পরে ২০১৯ সাল থেকে ভারতে থাকছিলেন ভিক্টোরিয়া। সৈকতের দাবি, বিয়ের পরে পরিবার জানতে পেরেছিল, ভিক্টোরিয়ার বাবা রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থা এফএসবি-র অবসরপ্রাপ্ত গুপ্তচর। বিয়ের পরে ভিক্টোরিয়া সৈকতের বাবা, প্রাক্তন সেনা অফিসারকে কলকাতায় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়ায় পরিবারের সন্দেহ হয়, ভিক্টোরিয়া নিজেও গুপ্তচর। সৈকত-ভিক্টোরিয়ার বিবাদের জেরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁদের পাঁচ বছর ছেলে দিল্লিতে বাবা, মায়ের কাছে ভাগাভাগি করে থাকত। কিন্তু ভিক্টোরিয়া ছেলেকে নিয়ে রাশিয়া পালিয়ে যান। এর পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সৈকত। তাঁর আবেদনে জানানো হয়, ভিক্টোরিয়া বা তাঁর ছেলে কোথায় রয়েছেন তা তিনি জানেন না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে বিদেশ মন্ত্রক ও দিল্লি পুলিশ।

দিল্লি পুলিশ ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। এমনকি জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা, রেড কর্নার নোটিসও জারি করা হয়। এ বার তদন্তকারীদের চার সপ্তাহের সময় দিল শীর্ষ আদালত।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement