সফলদের কুর্নিশ উধারবন্দের সুপ্রিয়াকে

সভায় উপস্থিতদের অধিকাংশই মেডিক্যাল কলেজ, এনআইটির পড়ুয়া। অনুষ্ঠানের কেন্দ্রে যে, সে সবে মাধ্যমিক পরীক্ষার মার্কশিট হাতে পেয়েছে। ভর্তি হয়েছে একাদশ শ্রেণিতে। তবু তাকে দেখতেই আগ্রহী সবাই।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০১৬ ০৩:২৮
Share:

সুপ্রিয়ার হাতে শংসাপত্র তুলে দিচ্ছেন শিলচর মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল শিল্পরানি বর্মন। ছবি: তিলক পুরকায়স্থ।

সভায় উপস্থিতদের অধিকাংশই মেডিক্যাল কলেজ, এনআইটির পড়ুয়া। অনুষ্ঠানের কেন্দ্রে যে, সে সবে মাধ্যমিক পরীক্ষার মার্কশিট হাতে পেয়েছে। ভর্তি হয়েছে একাদশ শ্রেণিতে। তবু তাকে দেখতেই আগ্রহী সবাই।

Advertisement

‘কেশব স্মারক সংস্কৃতি সুরভি’ এবং ‘সোসাইটি ফর প্যাথলজি’ গত কাল যৌথ ভাবে সংবর্ধনা জানাল উধারবন্দের ডলুগ্রাম কলোনির সুপ্রিয়া দেবকে। মেডিক্যাল কলেজের অতিথিশালায় এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান।

নয়মাস বয়সে তীব্র ডায়ারিয়া হয়েছিল সুপ্রিয়ার। সেই থেকে তার পুরো বাঁদিক অসার। বয়স এখন সতেরো ছাড়িয়েছে। স্বাভাবিক হওয়ার বদলে অস্বাভাবিকতা যেন ক্রমেই বাড়ছে। বাঁ হাতে বোধশক্তি নেই। বাঁ পা-টা আগে সোজা করতে পারত। এখন তাও হচ্ছে না। পেট দিনদিন ভেতরে ঢুকে পড়ছে। বাড়ছে পিঠের কুঁজ। ডান হাতটা সচল হলেও দু-তিন বছরের শিশুর মত সরু।

Advertisement

এই সরু হাতের ভরসাতেই সুপ্রিয়া বড় হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। সঙ্গে মা সুকৃতীদেবী। তিনি মেয়েকে কোলে করে নিত্য স্কুলে নিয়ে গিয়েছেন। দাঁড়িয়ে থেকেছেন স্কুলের বাইরে। ছুটির পর আবার তাকে কোলে চড়িয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মাধ্যমিকের পরীক্ষা চলার দিনগুলিও ব্যতিক্রম নয়।

কিছুদিন আগে শিক্ষাজীবনের প্রথম ধাপ পেরিয়েছে সুপ্রিয়া। মাধ্যমিক পাশ করেছে। কিন্তু এখানেই ‘সংগ্রাম’ থামিয়ে দিতে নারাজ সে। বরং নতুন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত মা-মেয়ে। ভর্তি হয়েছে তার পুরনো স্কুল, দুর্গানগর নয়ারাম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সে জন্যই সুপ্রিয়াকে সংবর্ধিত করল এই দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তার মাকেও পরিচয় করিয়ে দেয় সকলের সঙ্গে। এমন অবস্থাতেও তার পড়ার আগ্রহ দেখে মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল শিল্পীরানি বর্মন, সুপার এ এস বৈশ্য বিস্মিত। সুপ্রিয়া জানায়, বাবা শঙ্কর দেব দয়াপুর চা বাগানের শ্রমিক। ছোট বোন রূপশ্রী আগামী বছর মাধ্যমিক দেবে। সবাই তার প্রতি যত্নশীল।

সুকৃতীদেবীর কথায়, ‘‘অভাব-অনটন থাকলেও সুখেরই সংসার ছিল আমাদের। সুস্থই জন্মেছিল সুপ্রিয়া। ন’মাস বয়সে ডায়ারিয়া থেকেই নানা উপসর্গ।’’ সবাই আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবু তাকে নিয়েই বহু স্বপ্ন দেখতেন সুকৃতীদেবী। এখনও সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন তিনি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই লেখাপড়া শিখে বড় মানুষ হবে সু্প্রিয়া।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement