সুস্মিতা দেব ফাইল চিত্র
সন্তোষমোহন দেবের ঐতিহ্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান রাজনীতিকে একবিন্দুতে এনে নতুন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চাইছেন প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব৷ তৃণমূলের সদস্যপদ নিয়ে শিলচরে ফিরেই সন্তোষমোহন দেব এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতার কথা টেনে এনেছিলেন। গত কয়েক দিনে বরাক উপত্যকার যেখানে গিয়েছেন তিনি, ‘দিদির মুখে বাবার স্মৃতিচারণে’র গল্প শুনিয়েছেন।
আজ শিলচরে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যভুক্তি অভিযানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে মঞ্চ জুড়ে ছিল বিশাল ফ্লেক্স। তাতে একটিই মুখ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু একেবারে সামনে ছিল সাত বার কংগ্রেস টিকিটে নির্বাচিত সাংসদ, চার বারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের প্রতিকৃতি। তাঁর ছবিতে শ্রদ্ধা জানিয়েই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
কাছাড় জেলার তিন শতাধিক মানুষ এ দিন ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন। তৃণমূলের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেন। সবাইকে স্বাগত জানিয়ে সুস্মিতা দাবি করেন, জাতীয় স্তরে তৃণমূলই বিকল্প শক্তি। প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, বিজেপি-কে পরাস্ত করার ক্ষমতা এক মাত্র দিদিরই রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘চতুর্দিকে এত সমস্যা সত্ত্বেও কংগ্রেসের দুর্বলতার জন্য বিজেপির ভোটে ইভিএম ভর্তি হয়ে যায়।’’
তিনি আজ দলীয় কর্মীদের বুথপ্রতি ৫০ জন করে সদস্য সংগ্রহ করতে বলেন। প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে তাঁদের ক্যাডার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সুস্মিতা জানান, এখানে তৃণমূল কংগ্রেস ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠন গড়বে। নেতা নন, ক্যাডাররাই ভোট সংগ্রহ করবেন।
২৪-২৫ বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগ আর এ বার তাঁর দলত্যাগে এক জায়গায় সামঞ্জস্য রয়েছে, এ কথা উল্লেখ করে সুস্মিতা জানান, ‘‘আমরা দল ছাড়লেও আদর্শ ছাড়িনি। দিদি এখনও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে আঁকড়ে রয়েছেন। আমিও ওই জায়গা থেকেই আগাগোড়া বিজেপি-বিরোধী, সে জন্যই তৃণমূলে গিয়েছি।’’ দফায় দফায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও সুস্মিতা বক্তৃতা শেষ করেন 'সন্তোষমোহন দেব অমর রহে' বলে।
কিন্তু সন্তোষমোহন তো কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। সুস্মিতার জবাব, ‘‘তিনি বরাকের জননেতা ছিলেন। জননেতারা কোনও দলের হন না। বরাক উপত্যকায় তাঁর অবদান অস্বীকার করে কোনও দল এগিয়ে যেতে পারে না। তৃণমূল কংগ্রেস তাই শুরু থেকেই তাঁকে স্মরণ করে সংগঠন বিস্তারে মনোযোগী হয়েছে।’’