বারামতীতে ভেঙে পড়া সেই বিমান। ছবি: পিটিআই।
মহারাষ্ট্রের প্রয়াত উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পওয়ারের চার্টার্ড বিমানে স্যাটেলাইট সেফটি গিয়ার ছিল না? এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সূত্রের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ১৬ বছরের পুরনো এই বিমানটিতে স্যাটেলাইট সেফটি গিয়ার ‘গগন’ ছিল না। যার জেরে অবতরণ করতে গিয়েই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেটি।
প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, বিমানটি যে সময় বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করে, সেই সময় সেখানে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম ছিল। ফলে পাইলট প্রথম বার অবতরণের চেষ্টা করেও পারেননি। দ্বিতীয় বার বিমানটিকে অবতরণ করাতে গিয়েই দুর্ঘটনার শিকার হয় সেটি। তবে বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, দৃশ্যমানতা কম থাকলে, সেই পরিস্থিতিতে বিমানের স্যাটেলাইট গিয়ার সেফটি ব্যবস্থার সাহায্যে বিমানটিকে অবতরণ করানো হয়।
ওই সূত্রটি জানিয়েছে, বড় বড় বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস)-এর ব্যবহার হয়। আর এই প্রযুক্তি কম দৃশ্যমানতার পরিস্থিতিতেও বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে পাইলটকে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তিকে মূলত ‘ইনভিসিবল গ্লাইড পাথ’ বলা হয়। বৃষ্টি, কুয়াশা, এমনকি রানওয়ে যদি পাইলটেরা ঠিকমতো দেখতে না পান, সেই সময়েও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হয়। কিন্তু এই প্রযুক্তি অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। এই প্রযুক্তির চাহিদাও রয়েছে। বারামতীর মতো আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলিতে খুব কমই এই প্রযুক্তি ব্যবহার হয়। তাই সেই জায়গায় বিকল্প হিসাবে স্যাটেলাইট সেফটি গিয়ার ‘জিপিএস এডেড জিও অগমেন্টেড নেভিগেশন’ বা গগন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
সূত্রের দাবি, অজিতের যে লিয়ারজেট বিমানটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছে সেটি নথিভুক্ত হয়েছিল ২০২১ সালের ২ জুন। তার ঠিক ২৮ দিন পরই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়। সেখানে গগন প্রযুক্তি ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। ফলে এই বিমানটিতে সেই ব্যবস্থা ছিল না বলে দাবি। উড়ান বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, বিমানটিতে ‘অ্যাডভান্সড স্যাটেলাইট গাইডেন্স’ সম্ভবত ছিল না। তার কারণেই এই দুর্ঘটনা।
প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে মুম্বই থেকে চার্টার্ড বিমানে বারামতীতে ভোটের প্রচারকাজে যাচ্ছিলেন অজিত। বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সেটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। সেই ঘটনায় অজিত-সহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়।