—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
উত্তরপ্রদেশে পুলিশি এনকাউন্টারে গত তিন দিনে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫ জন। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে মোট ১৮টি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, তিন দিনে পৃথক এনকাউন্টারের ঘটনায় যে ১৫ জন জখম হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই পায়ে গুলি লেগেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় একই সময়ে এই এনকাউন্টারগুলি হয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রে দুষ্কৃতীরা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের গুলির লড়াই হয়। পুলিশ পা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁরা চিকিৎসাধীন।
মথুরায় এনকাউন্টারে পুলিশের গুলিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে। বুধবার রাতে হরদোইতে আরও এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। জখম ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনই মুজাফফরনগরের। মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে ছ’টি পৃথক ঘটনায় এঁরা জখম হয়েছেন। এ ছাড়া, অন্য দু’টি ঘটনায় চার জন পুলিশ আধিকারিকও জখম হন। তবে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাসে একটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত কয়েক জনকে গ্রেফতারির চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁরা স্থানীয় বাওয়ারিয়া গোষ্ঠীর সদস্য। একটি পরিবারকে আটকে রেখে তাঁদের গয়নাগাটি এবং নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিলেন অভিযুক্তেরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁদের গ্রেফতার করতে যায় পুলিশ। অভিযুক্তেরা গুলি চালান এবং পালানোর চেষ্টা করেন। তখনই পাল্টা গুলি করে পুলিশ। দু’জনের মৃত্যু হয়েছে তাতে। এই ঘটনায় দুই পুলিশ আধিকারিক জখমও হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা এবং অন্য জনের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা ছিল।
হরদোইতে গত সপ্তাহে সাত বছরের শিশুকে অপহরণ এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত বুধবার পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের খাতায় একাধিক মামলা ছিল। তাঁর মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। পুলিশের দাবি, বুধবার সকালে এই অভিযুক্তকে তারা ধরে ফেলেছিল। পুলিশ দেখে তিনি গুলি চালান। পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় এবং তাঁর মৃত্যু হয়।