মামলার ভাবনা পশ্চিমবঙ্গেও

ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ত্রিপুরা সরকার

ত্রিপুরার সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০১৬ ০৩:৩৪
Share:

ত্রিপুরার সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার। ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, ‘‘বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দিতে রাজ্যের বিপুল পরিমাণে অর্থের প্রয়োজন। যা রাজ্যের হাতে এই মুহূর্তে নেই।’’ এ দিকে, ত্রিপুরা হাইকোর্টের এই রায়ে উৎসাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস প্রভাবিত ‌সংগঠন ৫০ শতাংশ বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আদালতের পথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও বাম প্রভাবিত কো-অর্ডিনেশন কমিটি এখনই তেমন কিছু ভাবছে না।

Advertisement

উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়ে কিছু দিন আগেই ত্রিপুরার একটি অ-বাম সরকারি কর্মী সংগঠন সরকারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আগামী ছ’মাসের মধ্যেই তিন কিস্তিতে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধেই রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা বলেন, ‘‘রাজ্য আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণেই বকেয়া ডিএ সবটা মিটিয়ে দিতে পারেনি। মাঝে মাঝে কয়েক কিস্তি দিয়ে বকেয়ার পরিমাণ কমানো হয়েছে।’’ উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণার পরে ত্রিপুরার সরকারি কর্মীদের এখন বকেয়া ৪২ শতাংশ।

পশ্চিমবঙ্গে এই বকেয়া জমতে জমতে ৫০ শতাংশ ছুঁয়েছে। এ ক্ষেত্রেও রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বক্তব্য, আর্থিক সীমাবদ্ধতার ফলেই এই বকেয়া দেওয়া যাচ্ছে না। এতদিন অ-তৃণমূল কর্মী সংগঠনগুলি বিষয়টিকে দাবির পর্যায়েই রেখেছিল। কিন্তু আজ কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর নেতা মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, তাঁরা সামনের সপ্তাহেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায়ের কপি এনে আইনি পরামর্শ নিয়েছি। তার ভিত্তিতে আগামী সপ্তাহে আমরা সরকারকে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাব। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিলে আমরাও আদালতে যাব।’’ কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা মনোজ গুহ বলেন, ‘‘ডিএ-সহ নানা দাবিতে আমরা আগামী ২ সেপ্টেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। তার পরেই আমরা ডিএ-র দাবিতে কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement