Twisha Sharma Death

ত্বিশার মৃত্যুরহস্য: ফাঁসের দড়ি নিয়ে জট! কে শনাক্ত করেন? কেনই বা রাখা ছিল তদন্তকারীর গাড়িতে? উঠছে আরও প্রশ্ন

গত ১২ মে ভোপালের কাতারা হিল্‌সের বাসভবন থেকে উদ্ধার হয় ত্বিশা শর্মার দেহ। নয়ডার বাসিন্দা ওই যুবতীর মৃত্যুরহস্য এখনও ভেদ হয়নি। সেই ঘটনার তদন্ত নিয়ে নানা অসঙ্গতির অভিযোগ মৃতার পরিবারের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ১০:০১
Share:

ত্বিশা শর্মা। —ফাইল চিত্র।

ভোপালের বধূ ত্বিশা শর্মার দেহ যে দড়ি থেকে ঝুলতে দেখা গিয়েছিল, তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল। আদালতে অভিযোগকারীর পক্ষের আইনজীবীর তরফে দাবি করা হয়, ওই দড়ি ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, সে কথা বাজেয়াপ্তের তালিকায় ছিল। কিন্তু ওই দড়ি থেকেই যে ত্বিশার দেহ ঝুলেছিল, সেটা কে শনাক্ত করেছেন তার কোনও উল্লেখ নেই। তদন্তের এই অসঙ্গতির উপর জোর দিয়ে অভিযুক্ত গিরিবালা সিংহের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেছেন ত্বিশার পরিবারের আইনজীবী।

Advertisement

গত ১২ মে ভোপালের কাতারা হিল্‌সের বাসভবন থেকে উদ্ধার হয় ত্বিশার দেহ। নয়ডার বাসিন্দা ওই যুবতীর মৃত্যুরহস্য এখনও ভেদ হয়নি। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিংহ এবং শাশুড়ি গিরিবালা অত্যাচার করতেন। কন্যার মৃত্যুর পর সেই দাবি আরও জোরালো করেছেন ত্বিশার বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে মৃত্যুরহস্যের তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই।

ত্বিশার বাবা-মা প্রথম থেকেই পুলিশি তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। শুধু তা-ই নয়, গিরিবালা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক হওয়ায় তদন্ত এবং বিচার বিভাগে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ত্বিশার পরিবারের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ১৩ মে বাজেয়াপ্ত করা জিনিসের তিনটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকাগুলিতে গিরিবালা এবং সমর্থের বিস্তারিত উল্লেখ ছিল। কিন্তু কে ওই ফাঁসের দড়ি শনাক্ত করেছেন, সে কথা লেখা হয়নি তালিকায়! এ-ও দাবি করেছেন, ওই দড়ি ভোপালের এমসে পাঠানোর আগে তদন্তকারী অফিসার সেটি নিজের গাড়িতে রেখেছিলেন। অভিযোগকারীর পক্ষে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ কি সাক্ষ্যপ্রমাণের অখণ্ডতা বজায় রাখে?

Advertisement

আদালতে অভিযোগকারীর পক্ষে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই দড়ি সংক্রান্ত বাজেয়াপ্ত তালিকাটি মামলার ডায়েরির অংশ ছিল। তদন্তে ওই পর্যায়ে মামলার ডায়েরি অভিযুক্তের কাছে কখনই সহজলভ্য নয়। কিন্তু গত ২৭ মে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে গিরিবালার আগাম জামিনের আবেদনের শুনানিতে মামলার ডায়েরির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কী ভাবে অভিযুক্তের কাছে ওই ডায়েরির তথ্য পৌঁছোল।

ত্বিশার গলায় ফাঁসের দাগ ছাড়াও শরীরের আরও কয়েকটি জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। কোথাও কোথাও আবার কালসিটেও রয়েছে। ভোঁতা কোনও অস্ত্র দিয়ে আঘাতের কারণে সেই দাগ হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পরিবারের অনুরোধে, ত্বিশার দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্ত হয়েছে। সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, বৈদ্যুতিন ডিভাইসের ফরেনসিক এবং দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ এখনও বাকি। আপাতত এই মামলায় অভিযুক্ত দু’জন— গিরিবালা এবং সমর্থ জেল হেফাজতে রয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement