(বাঁ দিকে) দুর্ঘটনাস্থল। (ডান দিকে) মৃত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ মেহতা। ছবি: সংগৃহীত।
নয়ডার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ মেহতার মৃত্যুর ঘটনায় আরও দুই ইমরাত ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে তদন্তকারী এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃতেরা হলেন রবি বনশল এবং সচিন কর্নওয়াল। এই নিয়ে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল তিন। দু’দিন আগে আরও এক ইমারত ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃতের নাম অভয় কুমার। তবে এখনও মণীশ কুমার নামে আরও এক ব্যবসায়ীর খোঁজ চলছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল (এনজিটি) নয়ডা অথরিটির কাছে জবাব তলব করেছে। কেন দীর্ঘ দিন ধরে জল জমে ছিল, কেন জল সরানোর কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি, তা নিয়েই মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে নয়ডা প্রশাসনের কাছে। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও করেছেন এনজিটি। ট্রাইবুনালের চেয়ারপার্সন প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং এনজিটি-র বিশেষজ্ঞ সদস্য এ সেন্থিল ভেল বলেন, ‘‘যুবরাজ মেহতা গাড়ি নিয়ে ডান দিকে বাঁক নেন। আর তার পরই জলাশয়ে পড়ে যান গাড়ি নিয়ে। যে জলাশয়ে পড়ে যুবরাজের মৃত্যু হয়েছে, সেই জায়গা শপিং মল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি ক্রমে পরে একটি জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।’’ কেন জল সরানোর জন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনজিটি।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় নয়ডা অথরিটির সিইও লোকেশ এমকে কম্পালসরি ওয়েটিংয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে শোকজ় করা হয়েছে। এ ছাড়াও ওই এলাকায় ট্রাফিকের দায়িত্বে যে সব কর্মী ছিলেন, তাঁদেরও এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার মধ্যরাতে রাস্তার পাশে থাকা ৫০ ফুট গভীর জলাশয়ে গাড়ি নিয়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ মেহতার। সেই ঘটনার তোলপাড় গোটা নয়ডা। সূত্রের খবর, যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেই জায়গায় রাস্তাটি ৯০ ডিগ্রি বাঁক নিয়েছে। কোনও দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য ওই বাঁকের মুখে কোনও গার্ডরেল বা সতর্কবার্তা ছিল না। তার মধ্যে কুয়াশার কারণে বাঁকটাও ঠিকমতো ঠাহর করা যায়নি সে দিন। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি জলাশয়ের মধ্যে পড়ে।