Uttar Pradesh Murder Case

ঝগড়া করে স্ত্রীকে আটকে রাখেন ঘরে, সাত দিন জল পর্যন্ত খেতে দেননি! আসামি স্বামীর আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ

প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে দরজা ভেঙে মহিলাকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মৃত অবস্থায়। চার বছর আগে ওই ঘটনায় স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। শনিবার উত্তরপ্রদেশের নিম্ন আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আসামিকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৫ ১৬:৩০
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

দাম্পত্যকলহ লেগেই ছিল। তবে সে দিন স্বামী-স্ত্রীর অশান্তি হয়েছিল জোরদার। স্ত্রীকে মারধর করে ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন স্বামী। ওই ভাবে সাত দিন স্ত্রীকে আটকে রাখেন। খাবার তো দূরের কথা, খেতে দেননি এক গেলাস জলও। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে দরজা ভেঙে মহিলাকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মৃত অবস্থায়। চার বছর আগে ওই ঘটনায় স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। শনিবার উত্তরপ্রদেশের নিম্ন আদালত আজীবন কারাদণ্ড দিল আসামি মনোজকে।

Advertisement

২০২১ সালের ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের করেলি গ্রামের বাসিন্দা মমতার পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। বাড়িতেই ছিলেন ওই মহিলা। তবে বন্দি অবস্থায়। পুলিশ যখন মমতার বাড়িতে যান তখন একটি ঘর বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। দরজা খুলে একটি পচাগলা দেহ উদ্ধার করে তারা। দায়ের হয় খুনের মামলা। গ্রেফতার করা হয় মমতার স্বামী মনোজকে।

চার বছর মামলা চলার পরে শনিবার আসামি স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। তাঁর আজীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করেন বিচারক সুনীল পাণ্ডে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সাত দিন ধরে স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে দিয়েছিলেন মনোজ। খাবার তো দূরে থাক, জল পর্যন্ত খেতে দেওয়া হয়নি মহিলাকে। মমতার মৃত্যুকে ‘নৃশংস ভাবে খুন’ বলে উল্লেখ করে বিচারক তাঁর স্বামীর শাস্তির নির্দেশ শোনান। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরে মনোজদের বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ভেসে আসছিল। খোঁজ নিতে গিয়ে বাড়িতে কাউকে পাননি প্রতিবেশীরা। উপায়ান্তর না দেখে পুলিশকে খবর দেন তাঁরা। কয়েক জন পুলিশকর্মী ওই বাড়িতে যান। একটি ঘরের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দেখেন কম্বল জড়ানো অবস্থায় খাটে পড়ে রয়েছেন এক জন মহিলা। তবে শরীর পচে গিয়েছে। ঘরে ভন ভন করছে মাছি।

Advertisement

পচাগলা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছিল। রিপোর্টে জানা যায়, দীর্ঘ দিন অভুক্ত থাকার ফলে মারা গিয়েছেন মমতা। ওই ঘটনার পর পরই মৃতার স্বামীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement