QUAD

কোয়াডে জোর আমেরিকার, ভিন্নমত প্রাক্তন বিদেশ মন্ত্রক কর্তা

আজ কলকাতার আমেরিকান কনসুলেট ও ‘অবজ়ার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত কাঠামো সংক্রান্ত আলোচনা সভায় ক্যাথি বলেন, আমেরিকা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের জোট কোয়াড খুবই বাস্তবসম্মত অংশীদারির ভিত্তিতে গঠিত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৯
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সার্বভৌম, শক্তিশালী ও উন্নত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব নিয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একমত। সেখানেই কোয়াডের মতো গোষ্ঠীর গুরুত্ব বলে মন্তব্য করলেন কলকাতায় নিযুক্ত আমেরিকান কনসাল জেনারেল ক্যাথি জাইলস ডিয়াজ়।

আজ কলকাতার আমেরিকান কনসুলেট ও ‘অবজ়ার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত কাঠামো সংক্রান্ত আলোচনা সভায় ক্যাথি বলেন, আমেরিকা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের জোট কোয়াড খুবই বাস্তবসম্মত অংশীদারির ভিত্তিতে গঠিত। তাঁর দাবি, আমেরিকা মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ওই অঞ্চলে কোনও দেশ ক্ষমতার জোরে বা আর্থিক চাপ দিয়ে অন্য দেশকে বিপাকে ফেলুক তা আমেরিকা চায় না। কনসালের মতে, এই অঞ্চলে ভারত-আমেরিকা অংশীদারি পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর ফলে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কোয়াড তথা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরে অ‌ংশীদারিকে যখন এত বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে আমেরিকান কূটনীতিকের মুখে তখন কিন্তু কিছুটা ভিন্নমত ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের প্রাক্তন কর্তা অনিল ওয়াধওয়া। কলকাতায় বিদেশ মন্ত্রক ও ‘টেগোর ইনস্টিটিউট অব পিস স্টাডিজ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অনিল বলেন, আমেরিকান নীতির পরিবর্তনের ফলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় বিভিন্ন শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়েছে।

কোয়াড থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেনের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক নিরাপত্তা জোট ‘অকাস’ তৈরি করেছে ওয়াশি‌ংটন। ফলে অংশীদার হিসেবে আমেরিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনিলের মতে, ভারত যে কিছু উচ্চমানের জোটের বাইরেই থাকবে তা দিল্লির কাছে স্পষ্ট। ফলে কৌশলগত স্বনির্ভরতা প্রয়োজন।

অনিলের মতে, দিল্লির ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সমীকরণে বঙ্গোপসাগর একটি বিশেষ ভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দিল্লির পক্ষে উদ্বেগজনক। সে দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিনের বিপুল লগ্নি যে বেজিংয়ের বৃহত্তর কৌশলগত সমীকরণের অঙ্গ তাও দিল্লি জানে। সমুদ্রপথে চিন-পাকিস্তান অক্ষ ভারতের পক্ষে বড় সমস্যা। অনিলের মতে, চিন-পাকিস্তান আর্থিক করিডরে তৈরি গদর বন্দরের গুরুত্ব পাকিস্তানের আর্থিক চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। চিন ও পাকিস্তানের নৌসেনার যৌথ মহড়া, ডুবোজাহাজের হস্তান্তর ও সহযোগিতা বুঝিয়ে দিচ্ছে ভারত মহাসাগরে দিল্লি দ্বিমুখী রণকৌশলের মুখে পড়তে পারে। দিল্লির কাছে তাই কলম্বো সিকিয়োরিটি কনক্লেভের মতো আঞ্চলিক মঞ্চখুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন